Advertisement
E-Paper

বৈদ্যুতিক বেড়ায় মৃত্যু দুই শশা চোরের

জঙ্গল লাগোয়া তল্লাটে হাতির হামলা ঠেকাতে বিদ্যুৎবাহী তার দিয়ে জমি-বাড়ি ঘেরার বিষয়টি প্রচলিত। কিন্তু মানুষকে, বলা ভাল শশা চোরদের ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে ফসলের মাঠের চার দিক বিদ্যুৎবাহী তার দিয়ে ঘিরে রেখেছিলেন জমির মালিক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৭ ০১:৪৫

জঙ্গল লাগোয়া তল্লাটে হাতির হামলা ঠেকাতে বিদ্যুৎবাহী তার দিয়ে জমি-বাড়ি ঘেরার বিষয়টি প্রচলিত। কিন্তু মানুষকে, বলা ভাল শশা চোরদের ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে ফসলের মাঠের চার দিক বিদ্যুৎবাহী তার দিয়ে ঘিরে রেখেছিলেন জমির মালিক। আর ঢুকতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন দুই যুবক। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নোদাখালি এলাকার চক কাশীপুর গ্রামে। পুলিশ জানায়, মৃতদের নাম রাজীব আলি (১৯) ও মোজাম্মেল শেখ (২১)।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, স্থানীয় ওই দুই যুবক চুরি করে শশা খেতেই জমিতে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু চুরি ঠেকাতে মানুষের জন্য এমন মরণফাঁদ তৈরি বেআইনি বলে জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষও। ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা শনিবার শশা খেতের মালিক মোস্তাকিন শেখের বাড়ি ভাঙচুর করেন। এ দিন বিকেলে মোস্তাকিনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চক কাশীপুরে দু’বিঘা জমিতে শশা চাষ করেন মোস্তাকিন। কিন্তু ইদানীং প্রায়ই তাঁর জমি থেকে শশা চুরি হচ্ছিল। বিস্তর চেঁচামেচি করেও লাভ হয়নি। তার পরে ওই শশা বাগানের চার পাশ লোহার সরু তার দিয়ে ঘিরে দেন তিনি। তাতেও শশা চুরি কোনও ভাবে বন্ধ হয়নি। এর পরে জমির পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটির একটি ফেজ থেকে তার টেনে বা হুকিং করে জমির বেড়ার তারটি মোস্তাকিন বিদ্যুৎবাহী করে দেন।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, একেকটি ফেজ-এ ২২০ ভোল্ট বিদ্যুৎ থাকে। যা কোনও মানুষের প্রাণ নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। মোস্তাকিন যে তাঁর শশা খেতের বেড়ার লোহার তার বিদ্যুৎবাহী করে রেখেছেন, সেটা এলাকার কাউকে কখনও বলেননি তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত তখন ১০টা। মোস্তাকিনের জমির পাশেই বসে গল্প করছিলেন রাজীব আলি, মহম্মদ মোজাম্মেল শেখ-সহ চার জন যুবক। আড্ডা চলাকালীন তাঁদের মনে হয়, মোজাম্মেলের খেতে ঢুকে শশা তুলে খাবেন। মোজাম্মেল ও রাজীব জমির বেড়ার তার পেরোতে যান। আর তখনই তাঁরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। আর্তনাদ করে বেড়া টপকে জমির ভিতরে পড়ে যান দু’জন। তারে তখনও বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে পড়েন বাকি দু’জন। খানিক পরে ঘোর কাটিয়ে তাঁরা চিৎকার করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ডাকতে থাকেন। পরে বিদ্যুতের খুঁটির ওই ফেজটি থেকে বাগানের বেড়ার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জমিতে ঢুকে ওই দু’জনকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘শশা চুরি ঠেকাতে জমির মালিক অবশ্যই নিজের মতো করে ব্যবস্থা নিতে পারেন। তা বলে তিনি এমন কিছু করতে পারেন না, যাতে এ ভাবে বেঘোরে মানুষের মৃত্যু হয়! প্রয়োজনে তিনি পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারতেন।’’

Cucumber Electrical fence
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy