Advertisement
E-Paper

কিউআর কোডে বাঁধা হকারি, জানুয়ারিতেই ডিজিটাল শংসাপত্র দেবে কলকাতা পুরসভা, ডালার কালোবাজারি রুখতেই পদক্ষেপ

কলকাতা পুরসভার বরাদ্দ করা শংসাপত্র বা বরাদ্দ করা জায়গা নিয়ে যাতে কোনওরকম কালোবাজারি না হতে পারে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে পুর প্রশাসন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪২
Hawkers tied to QR codes, KMC to issue digital certificates in January

চলতি জানুয়ারি মাসেই হকারদের ডিজিটাল শংসাপত্র দেওয়া শুরু করবে কলকাতা পুরসভা । —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

চলতি জানুয়ারি মাসেই হকারদের জন্য ডিজিটাল ভেন্ডিং সার্টিফিকেট বা হকার শংসাপত্র দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। এ বার যে শংসাপত্র দেওয়া হবে, তাতে যুক্ত থাকছে বিশেষ প্রযুক্তি—কিউআর কোড। এই কিউআর কোডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হকারের নাম, ঠিকানা, ছবি, পরিচয়পত্রের তথ্য এবং নির্দিষ্ট ডালা বা স্টলের অবস্থান সংরক্ষিত থাকবে। ফলে কেউ নিজের হকারির জায়গা বিক্রি করলে, ভাড়া দিলে বা অন্য কাউকে দিয়ে ব্যবসা করালে তা সহজেই ধরা পড়বে বলে দাবি পুরসভার। কলকাতা পুরসভার দেওয়া শংসাপত্র বা বরাদ্দ করা জায়গা নিয়ে যাতে কোনওরকম কালোবাজারি না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে পুর প্রশাসন।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কিউআর কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট হকারের সমস্ত নথি অনলাইনে যাচাই করা যাবে। কোনও স্টলে অন্য ব্যক্তি বসলে বা অবৈধ ভাবে হাতবদল হলে সঙ্গে সঙ্গেই তা নজরে আসবে। এতে স্টল বা ডালা কেনাবেচার প্রবণতা যেমন বন্ধ করা যাবে, তেমনই বেআইনি হকারদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, শহরের যত্রতত্র হকার বসা নিয়ে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর নবান্নে এই সংক্রান্ত এক বৈঠক করে দ্রুত শহরাঞ্চলের স্পষ্ট হকার নীতি তৈরি করতে নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশেই দখলদার সরাতে অভিযান শুরু হলেও, ওই বছর উৎসবের মরসুমে তা কিছুটা থমকে যায়। পরে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে আবার নতুন করে অভিযান শুরু হয়। এর মধ্যেই হকারদের পুনর্বাসন ও তাঁদের নিয়মের আওতায় আনার জন্য ডিজিটাল শংসাপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে পুরসভা।

২০২৪ সালে সমীক্ষা করে শহরের মোট ৫৪ হাজার ১৭৮ জন হকারকে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম দফার সমীক্ষায় প্রায় ১৪ হাজার জনের নাম ওঠে। তাঁদের মধ্যে আপাতত ৮ হাজার ৭২৭ জনকে শংসাপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। গত বছর ১৬ অগস্ট প্রথম দফায় এই শংসাপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদনের অভাবে তা পিছিয়ে যায়।

পুরসভা জানিয়েছে, প্রতিটি শংসাপত্রের জন্য বছরে ৮০০ টাকা ফি ধার্য করা হবে। ২০১৫ সালের সমীক্ষা এবং সাম্প্রতিক সমীক্ষা—এই দুই তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে এবং যাঁরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ফুটপাতে ব্যবসা করছেন, তাঁদেরই প্রথম পর্যায়ে শংসাপত্র দেওয়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ে বাকি হকারেরাও নিয়ম মেনে চললে শংসাপত্র পাবেন। এই ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে ভবিষ্যতে ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়ার সুবিধাও মিলবে বলে জানিয়েছে পুরসভা।

hawkers hawker policy Street hawkers KMC QR Code
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy