Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৬ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

TMC: সরকারি জায়গা দখল করে বিক্রি করার অভিযোগ

সামসুল হুদা
ভাঙড়  ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৯:০৭
বেআইনি:  ভাঙড়ের জাগুলগাছির মল্লিক মোড়ের কাছে ঘটকপুকুর-বারুইপুর রাস্তার ধারে এই সরকারি জায়গাতেই জবরদখল করে দোকান তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

বেআইনি: ভাঙড়ের জাগুলগাছির মল্লিক মোড়ের কাছে ঘটকপুকুর-বারুইপুর রাস্তার ধারে এই সরকারি জায়গাতেই জবরদখল করে দোকান তৈরির অভিযোগ উঠেছে।
নিজস্ব চিত্র।

জবরদখল হয়ে যাচ্ছে সরকারি জায়গা। পরে তা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তৃণমূলের কিছু নেতা-কর্মী এই ঘটনায় যুক্ত বলে অভিযোগ।

গত কয়েকদিন ধরে ঘটকপুকুর-বারুইপুর রোডের ধারে ভাঙড় ১ ব্লকের জাগুলগাছি মল্লিকমোড়ের কাছে পূর্ত দফতরের জায়গা জবরদখল হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের। সেই জমিতে বাঁশ, দরমার বেড়া দিয়ে ঘিরে দোকান তৈরি হচ্ছে। এলাকার যুব তৃণমূল নেতা শাজাহান খানের নেতৃত্বে জায়গা দখল করে ৪০-৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এর আগেও ওই এলাকায় একাধিক বেআইনি নির্মাণ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রী বার বার সরকারি জায়গার দখলদারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। তার পরেও প্রশাসন কার্যত কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকার মানুষ।

মল্লিকমোড়ের কাছে রাস্তার ধারেই দুর্গাদাস বসু মল্লিকের নিজের রায়তি সম্পত্তি রয়েছে। সামনেই পূর্ত দফতরের জায়গা। সরকারি জায়গা জবরদখল হয়ে যাওয়ার ফলে বিপাকে পড়েছে দুর্গাদাসের পরিবার। পরিবারের সদস্য শিবশঙ্কর মণ্ডল বলেন, ‘‘দিনের পর দিন ওই এলাকায় সরকারি জমি রাতারাতি জবরদখল করে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতাদের মদতে। স্থানীয় প্রশাসনকে বার বার জানানো হয়েছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি।’’

Advertisement

ভাঙড় ১ (এ) ব্লক তৃণমূল সভাপতি কাইজার আহমেদ বলেন, ‘‘এ রকম একটা অভিযোগ পেয়েছি। আমি এলাকায় গিয়ে সব কিছু খতিয়ে দেখে এসেছি। প্রশাসনকে জানিয়েছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই অনৈতিক কাজের জন্য আমরা দল থেকে শাজাহান খানকে সরিয়ে দিয়েছি। আমরা এ ধরনের অনৈতিক কাজ সমর্থন করি না।’’ অন্য দিকে, নিজেকে দলের ‘একনিষ্ঠ কর্মী’ বলে দাবি করে শাজাহান খান বলেন, ‘‘আমি কোনও অনৈতিক কাজ করিনি। কোনও সরকারি জায়গা জবরদখল করে বিক্রি করিনি। একজনের কাছ থেকে তাঁর রায়তি সম্পত্তি কিনে আমার এক বন্ধুকে বিক্রি করেছি।’’

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জমির চরিত্র বদল না করেই ব্লক এলাকায় জলাভূমি ভরাট করে বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে। জাগুলগাছির ওই এলাকায় সম্প্রতি জলাভূমি ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বেআইনি নির্মাণ। যা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে মানুষের।

ঘটকপুকুর বাজারেও রাস্তার ধারের ফুটপাত ও সরকারি জায়গা জবরদখল করে দোকান তৈরির অভিযোগ উঠছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল সরকার, প্রদ্যোৎ মণ্ডল বলেন, ঘটকপুকুর হাইস্কুলের গা ঘেঁষে সরকারি জায়গা জবরদখল করে গড়ে উঠেছে দোকান। যে কারণে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। প্রায় প্রতিদিন যানজট হচ্ছে।

ভাঙড় ১ বিডিও দীপ্যমান মজুমদার বলেন, ‘‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইমতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’’ ভাঙড় থানার আইসি সৈয়দ রেজাউল কবীর বলেন, ‘‘এ ধরনের কোনও অভিযোগ পাইনি। সব কিছু খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’’

ভাঙড় ১ বিএলআরও অরিজিৎ পাল বলেন, ‘‘আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি। সব কিছু খতিয়ে দেখার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’’

আরও পড়ুন

Advertisement