নজরদারি চলছে। তা-ও খোদ উপ-পুরপ্রধানের উপরে!
সম্প্রতি খড়দহ পুরসভার উপ-প্রধানের ঘরের বাইরে সিসি ক্যামেরা লাগানো নিয়ে উঠেছে এমনই অভিযোগ। কর্মীদের একাংশের দাবি, তাতে শুধু ছবি নয়, রয়েছে কথাবার্তা রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থাও। আর ওই ক্যামেরা লাগানো হয়েছে খোদ পুরপ্রধানের নির্দেশে। শাসকদলের দখলে থাকা পুরসভায় এ হেন ঘটনায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়েছে বলে পুরসভার অন্দরেই ফিসফাস। বিরোধীদের কটাক্ষ, ‘‘ওরা আগে নিজেদের ঘরের দ্বন্দ্ব সামলাক। তার পরে রাজনীতির লড়াই করবে।’’
পুরসভার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছেন পুরপ্রধান, তার পরেই উপ-পুরপ্রধান। উপ-পুরপ্রধান সায়ন মজুমদারের থেকে বয়সে প্রবীণ পুরপ্রধান নীলু সরকার। ‘ভাই’-এর উপরে ‘দিদি’র এই নজরদারি নিয়ে চলছে হাসাহাসিও। কেউ কেউ বলছেন, ‘‘ভাইয়ের ঘরে অফিসের ও বাইরের কারা আসছেন-যাচ্ছেন, তা সবই নজরে রাখছেন দিদি।’’ আর এ বিষয়ে সায়নের বক্তব্য, ‘‘হঠাৎ দেখলাম সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। কেন, কিসের জন্য, সেটা যিনি ক্যামেরা লাগিয়েছেন, তিনিই ভাল বলতে পারবেন।’’
খড়দহ বিধানসভা জুড়ে এমনিতেই শাসকদলের অন্দরে প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে। সেখানে ২২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত খড়দহ পুরসভায় প্রধান বনাম উপ-প্রধানের ঠান্ডা যুদ্ধের কথা সকলেই জানেন। দু’জনেরই নির্দিষ্ট গোষ্ঠী রয়েছে। সেখানে সিসি ক্যামেরা নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। সূত্রের খবর, পুরসভায় আগে থেকেই প্রায় ৩০টি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সম্প্রতি অ্যাসেসমেন্ট বিভাগে নতুন ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। সেই সঙ্গেই পুর ভবনের তেতলায় সায়নের ঘরের ঠিক বাইরেই নতুন ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলেই পুরসভা সূত্রের খবর।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, সিসি ক্যামেরার মনিটর রয়েছে পুরপ্রধানের ঘরে। সেই ঘরের বাইরের চত্বরে একটি ক্যামেরা বসানো আছে। কর্মীদের একাংশের দাবি, সেই ক্যামেরায় লিফট ও সিঁড়ি দিয়ে উঠে উপ-প্রধানের ঘরের সামনে দিয়ে কারা প্রধানের ঘরের বাইরের চত্বরে আসছেন-যাচ্ছেন— সবই দেখা যায়। কিন্তু, এর পরেও উপ-প্রধানের ঘরের বাইরে নতুন ক্যামেরা লাগানোয় কি তাঁর উপরে প্রধানের অবিশ্বাসই প্রকট হচ্ছে? এই প্রশ্নই তুলছেন বিরোধীরা।
যদিও নীলু সরকারের কথায়, ‘‘ভিত্তিহীন অভিযোগ ও প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। ওই জায়গায় আগেও সিসি ক্যামেরা ছিল। সেটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল, তাই নতুন করে লাগানো হয়েছে।’’ কিন্তু কবে থেকে সায়নের ঘরের সামনে ক্যামেরা ছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি নীলু। তাঁর উত্তর, ‘‘দেখে বলতে হবে।’’ যদিও সায়ন ও পুরকর্মীদের একাংশের দাবি, ওই জায়গায় কখনওই কোনও ক্যামেরা ছিল না!
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)