ঘটছে দুর্ঘটনা, ছড়াচ্ছে দূষণ। তবু বেআইনি মোটরভ্যান বন্ধে কোনও পদক্ষেপই করছে না প্রশাসন। অথচ শহরতলির পথে পথে মোটরভ্যানের দৌরাত্ম্যে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
ক’দিন আগেই বকুলতলা থানার পদুয়ার মোড়ের কাছে একটি ইটবোঝাই মোটরভ্যানের ধাক্কায় মৃত্যু হয় বছর বারোর এক স্কুলছাত্রের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইকেল আরোহী ওই ছাত্রকে ধাক্কা দেয় ভ্যানটি। অভিযোগ, অতিরিক্ত মাল থাকায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি চালক। ঘটনার পরেই উত্তেজিত জনতা মোটরভ্যানে আগুন লাগিয়ে দেয়।
জয়নগর, বকুলতলা, কুলতলি-সহ সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ধরনের মোটরভ্যান। পায়ে-টানা সাধারণ ভ্যানের মতোই কাঠামো। শুধু লাগিয়ে নেওয়া হচ্ছে ইঞ্জিন। প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় যাত্রী পরিবহণে এই ভ্যানই ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এতে মালবহন করা হয়। সেখানেই বিপত্তি। আদতে বেআইনি, তাই এই মোটরভ্যানে মাল পরিবহণের কোনও সীমাও নির্দিষ্ট করা নেই। ফলে যে যেমন খুশি মাল তোলে। আর তার ফলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানগুলি দুর্ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ।
সাধারণত বেআইনি কাটা তেলে চলে এই মোটরভ্যান। দূষণও ছড়ায়। কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় চারদিক। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। জয়নগরের বাসিন্দা শান্তনু মণ্ডল বলেন, ‘‘রাস্তা ছেয়ে গিয়েছে মোটরভ্যানে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা তো আছেই, দূষণও ছড়াচ্ছে গাড়িগুলি। প্রশাসন কেন এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে না, জানি না।’’
বিভিন্ন ট্রাফিক গার্ডের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অন্য ইঞ্জিনচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাফিক সংক্রান্ত যে নিয়মকানুন রয়েছে, তার কোনওটাই মোটরভ্যানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আদতে পায়ে-টানা সাধারণ ভ্যান হিসেবেই দেখা হয় এগুলিকে। ফলে দূষণ বা অতিরিক্ত মালবহন— কোনও ক্ষেত্রেই এদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
আর নিয়মের এই ফাঁক গলেই চলছে মোটরভ্যানের বাড়বাড়ন্ত। ইদানীং নতুন মডেলের নানা রকম ভ্যান বেরোচ্ছে। মাপে অনেকটাই বড় করা হচ্ছে এগুলি। কোনও কোনও ভ্যানে সাধারণ হ্যান্ডেলের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে স্টিয়ারিং। এর ফলে আরও বেশি মাল বহন করা যাচ্ছে। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
মোটরভ্যান চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ইদানীং মাল পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত ছোট ট্রাকগুলির উপরের অংশ কেটে মোটরভ্যান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে দূষণ বা অতিরিক্ত মাল পরিবহণের ক্ষেত্রে পুলিশি ঝক্কিও পোহাতে হচ্ছে না। কারণ, এই ধরনের ইঞ্জিনভ্যানের ক্ষেত্রে ট্র্যাফিক নিয়মকানুন নিয়ে কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। বারুইপুর পুলিশ জেলার ডিএসপি (ট্র্যাফিক) কুতুবুদ্দিন খান বলেন, ‘‘মোটর ভ্যান বেআইনি ভাবে চলছে এটা ঠিক। এর আগে বিষয়টি নিয়ে অনেক চর্চাও হয়েছে। কী ভাবে এদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।’’