E-Paper

হাবড়ায় ঐক্যের বার্তা বালুর, মিলল সাড়াও

প্রার্থী ঘোষণার পরেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নেমে পড়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন হাবড়ার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে।

সীমান্ত মৈত্র  

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:৫৫
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ফাইল চিত্র।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে হাবড়ায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় ঐক্যের বার্তা দিলেন তৃণমূলের তিন বারের বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে তিনি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং দলীয় কোন্দল ভুলে সবাইকে এক সঙ্গে নিয়ে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন।

মঙ্গলবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ফের ভরসা রেখেছেন জ্যোতিপ্রিয়ের উপরে, তাঁকেই হাবড়া কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও গত কয়েক মাস ধরেই জল্পনা চলছিল— তিনি হয় তো এ বার টিকিট না-ও পেতে পারেন বা অন্য কেন্দ্রে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমনকি জ্যোতিপ্রিয় নিজেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘কালের নিয়মে’ তাঁকে অন্যত্র যেতে হতে পারে।

প্রার্থী ঘোষণার পরেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নেমে পড়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন হাবড়ার দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। বিশেষ করে, যাঁদের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তাঁদেরও ব্যক্তিগত ভাবে ফোন করে একজোট হয়ে ভোটে নামার আবেদন জানান।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল প্রাক্তন পুরপ্রধান নীলিমেশ দাস, তৃণমূলের রাজ্য ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বুবাই বসু, তৃণমূল নেতা মনোজ রায়, বিশ্বজিৎ সমাদ্দারদের মতো কিছু নেতা-কর্মীর। তাঁদের অনেকেই হাবড়ায় জ্যোতিপ্রিয়ের কর্মসূচিতে কার্যত দেখা যেত না। তবে প্রার্থী ঘোষণার পরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।লিমেশ এ বার হাবড়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। নীলিমেশ বলেন, ‘‘মঙ্গলবার বালুদা (জ্যোতিপ্রিয়) ফোন করে কথা বলেছেন। দলের স্বার্থে সব অভিমান ভুলে আমরা এক সঙ্গে লড়ব।” বুবাই বলেন, ‘‘বালুদার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে, প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়ব।’’ বিশ্বজিৎ স্পষ্ট করে দেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীকে জেতাতে আমরা মাঠে নামব।’’ মনোজের কথায়, ‘‘বালুদা ফোন করেছিলেন। আমরা তৃণমূল করি, বালুদাকে জেতাতে চেষ্টায় ত্রুটি রাখব না।’’

বুধবার হাবড়া শহরে তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচনী বৈঠক করেছেন। সেখানে সব পক্ষই উপস্থিত ছিলেন, যা স্বস্তি দিচ্ছে জ্যোতিপ্রিয়কে।

হাবড়ায় জ্যোতিপ্রিয়ের সামনে চ্যালেঞ্জ এমনিতে কম নয়।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জিতেছিলেন মাত্র ৩,৮৪১ ভোটে। রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হন এবং প্রায় ১৪ মাস জেলে ছিলেন। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তাঁর অনুপস্থিতিতে হাবড়ায় তৃণমূলের ফল ছিল হতাশাজনক। পুরসভার ২৪টি পুর ওয়ার্ডের সব ক’টিতেই পিছিয়ে পড়ে দল। ৪টি পঞ্চায়েতের মধ্যে দু’টিতে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। সব মিলিয়ে তৃণমূল প্রার্থী ১৯,৯৩৩ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন।এই পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিচ্ছে— এ বার জয়ের জন্য জ্যোতিপ্রিয়কে বড় ব্যবধান পেরোতে হবে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই জ্যোতিপ্রিয় হাবড়ায় সংগঠন মজবুত করতে নেমেছেন। উন্নয়নও করেছেন কিছু। তবে এই সময়েই দলীয় অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়। বিশেষ করে প্রাক্তন পুরপ্রধান নীলিমেশ দাসের সঙ্গে বর্তমান পুরপ্রধান নারায়ণ সাহার দূরত্ব বেড়েছে বলে দলের অন্দরে খবর। নারায়ণকে জ্যোতিপ্রিয়ের ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হয়।

বুধবার শহরে তৃণমূলের সব পক্ষকে নিয়ে যে নির্বাচনী বৈঠক হয়েছে, সেখানে ঐক্যের বার্তা স্পষ্ট করা হয়। জ্যোতিপ্রিয় বলেন, ‘‘হাবড়ায় আমরা ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে লড়াই করব। আগের থেকে অনেক বেশি ভোটে জয়ী হব।’’ দলের এক নেতার মতে, ‘‘বালুদা (জ্যোতিপ্রিয়) সকলের ঊর্ধ্বে। তাঁকে ঘিরে বিভাজন হওয়া উচিত হয়নি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Habra Jyotipriya Mallick

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy