Advertisement
E-Paper

অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র ভরেছে আগাছায়, আম পাকছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে

দেগঙ্গার চৌরাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাটিকুমড়া গ্রামে তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে দু’টি ভবন। কথা ছিল একটিতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র হবে। অপরটিতে অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০১৭ ১৩:৫৭
অপচয়: বাঁ দিকে, অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র। ডান দিকে, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে আমের ঝুড়ি। ছবি: সজলকুমার চট্টোপাধ্যায়

অপচয়: বাঁ দিকে, অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র। ডান দিকে, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে আমের ঝুড়ি। ছবি: সজলকুমার চট্টোপাধ্যায়

হওয়ার কথা ছিল উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু তার ভিতরে চলছে আম পাকানোর কাজ!

দেগঙ্গার চৌরাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাটিকুমড়া গ্রামে তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে দু’টি ভবন। কথা ছিল একটিতে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র হবে। অপরটিতে অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্র। কিন্তু কোনওটিই হয়নি। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অঙ্গনওয়াড়ির জন্য মাটিকুমড়া গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ সামসুদ্দিন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি সরকারকে জমি দান করেছিলেন। বিনিময়ে তখনকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পঞ্চায়েত সমিতির কর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাঁর পরিবারের দু’জনকে ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও অঙ্গনওয়াড়িতে চাকরি দেওয়া হবে।

সামসুদ্দিনের দাবি, এরপরে ২০১১ সালে দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে এমএসডি (সংখ্যালঘু উন্নয়ন) তহবিল থেকে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অঙ্গনওয়াড়িকেন্দ্রের ভবন।

গ্রামবাসীরা জানান, ২০১১ সালে দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস-তৃণমূল জোট। জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন কংগ্রেসের আলি আহমেদ ও পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন ইসমাইল মল্লিক। তখন তাঁরা বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন ঠিকই। কিন্তু তিন বছরের অন্তরে হঠাৎ তাঁরা দু’জনেই মারা যান।

সামসুদ্দিনের দাবি, এরপর ওই বিষয় নিয়ে কোনও কথা হয়নি। সে কারণে সরকারি ভাবে জমি হস্তান্তরও হয়নি। সেই জটেই আটকে রয়েছে দু’টি প্রকল্প। দেগঙ্গা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক মনোজকুমার বলেন, ‘‘বিষয়টি বেশ পুরনো। সব তথ্য জানা নেই।’’ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলে কী ভাবে বিষয়টির সমাধান করা যায় তা দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এলাকার মানুষের অভিযোগ, এই টানাপড়েনে আজও চালু হল না দু’টি প্রকল্প। সমস্যায় পড়তে হয় এলাকার মানুষকে। সংখ্যালঘু উন্নয়নের কয়েক লক্ষ টাকায় তৈরি ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে এখন আম পাকানোর কাজ চলে। ভবনগুলিতে ছেয়ে গিয়েছে জঙ্গল আর আগাছা। এলাকার মানুষের দাবি, অবিলম্বে চালু করতে হবে ওই প্রকল্প।

এ বিষয়ে দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি লিলু মোস্তারি খানম বলেন, ‘‘তৈরি হয়ে পড়ে থাকা ওই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অঙ্গনওয়া়ড়ি শিশুশিক্ষাকেন্দ্রটি চালুর চেষ্টা চলছে। এ ভাবে চাকরি দেওয়াটা এখন সমস্যার। তা সমাধানের চেষ্টা চলছে।’’

Anganwadi center Land দেগঙ্গা Health Center Unused
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy