মাধ্যমিক উত্তীর্ণ তৃণমূল বিধায়ক হয়েছেন কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি। মন্দিরবাজারের বীরেশ্বরপুর গৌরমোহন শচীন মণ্ডল মহাবিদ্যালয়ের এই ঘটনায় তৃণমূলেরই অন্দরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতিকে স্মাতক হতেই হবে। যদিও ওই কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, এ রকম নির্দেশিকা তাঁরা এখনও পাননি।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ মে পরিচালন সমিতির নির্বাচন ছিল। সে দিন কলেজের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, মন্দিরবাজার পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য এবং কলেজের টিএমসিপি পরিচালিত ছাত্র সংসদের সমর্থনে সভাপতি মনোনীত হন স্থানীয় বিধায়ক জয়দেব হালদার। তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, কলেজের এক অধ্যাপক পরিচালন সমিতির সভাপতি হতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু দলের প্রভাবশালী অংশের চাপে জয়দেববাবুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই ঘটনায় পরে কলেজের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক বলেন, ‘‘স্নাতক কাউকে সভাপতি করলে কলেজ পরিচালনায় সুবিধা হতো।’’
স্থানীয় সূত্রে খবর, গ্রামের স্কুলে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পরে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন ধান্যঘাটা গ্রামের বাসিন্দা জয়দেববাবু। পরে তিনি স্থানীয় কেচারকুড় পঞ্চায়েতের উপ প্রধান হন। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে মন্দিরবাজার থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন তিনি। তার পর এলাকার ঝাঁপবেড়িয়া হাই মাদ্রাসা থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন তিনি।
শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ন্যূনতম স্মাতক উত্তীর্ণ না হলে কাউকে কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি করা যাবে না। তারপরেও কী ভাবে ঘটল এই ঘটনা? কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লা হাসান জমাদার দাবি, ‘‘সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসাবে বিধায়ককে সভাপতি করা হয়েছে। স্মাতক ছাড়া সভাপতি করা যাবে না, এ রকম কোনও নির্দেশ আমরা পাইনি। পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ বিধায়ক তথা পরিচালন সমিতির সভাপতি জয়দেব হালদারকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।