E-Paper

বেশ ক’বার হাতবদল হয় বিক্রি হওয়া শিশু, গ্রেফতার আরও দুই

বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তেলঙ্গানার বাসিন্দা পি ইয়েল্লাহ নামে এক ব্যক্তি তিন লক্ষ টাকা দিয়ে শিশুটিকে কিনেছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বিক্রি হয়ে যাওয়া থেকে অভিযোগ দায়ের হওয়া পর্যন্ত দিনকয়েকের মধ্যেই চার-পাঁচ বার হাতবদল হয়েছে একটি শিশু। বারাসত-২ ব্লকের শাসনের বহিরা কালীবাড়ি এলাকা থেকে ওই শিশুটি বিক্রি হয়ে গিয়েছিল জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে। গত ২৬ জানুয়ারি শাসন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে দক্ষিণ ভারত থেকে ছ’মাসের ওই শিশুকন্যাকে উদ্ধার করেছে শাসন থানার পুলিশ। সেখান থেকে এক দালালের পাশাপাশি শিশুটিকে কেনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার পিছনে কোন চক্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তেলঙ্গানার বাসিন্দা পি ইয়েল্লাহ নামে এক ব্যক্তি তিন লক্ষ টাকা দিয়ে শিশুটিকে কিনেছিল। ওই ব্যক্তি নিঃসন্তান। কিন্তু তার কাছে পৌঁছনোর আগেই টাকার বিনিময়ে চার-পাঁচ বার হাতবদল হয়েছিল শিশুটি। এই ঘটনায় ধৃত দালালের নাম শিবা। সামগ্রিক ঘটনায় মোট কত টাকার লেনদেন হয়েছে, ধৃতদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা চলছে। গোটা ঘটনার পিছনে একটি আন্তঃরাজ্য চক্র সক্রিয় ছিল বলেই দাবি পুলিশের।

শিশুটিকে বিক্রির অভিযোগে তার বাবা-মাকে আগেই গ্রেফতার করেছিল শাসন থানার পুলিশ। পুলিশ মনে করছে, ওই দম্পতির আর্থিক অনটনের সুযোগকে কাজে লাগিয়েই শিশুটিকে কেনা হয়েছিল। গত ২৬ জানুয়ারি বারাসত-২ ব্লকের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোটেকশন অফিসার রাজশঙ্কর পাণ্ডে শিশু বিক্রির অভিযোগ দায়ের করেন শাসন থানায়। তার পরেই সোনালি সাহা ওরফে জসমিনা বিবি নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, সোনালির অন্ধ্রপ্রদেশে যাতায়াত ছিল। শিবা তার পরিচিত।

পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, দত্তপুকুরের বাসিন্দা সোনালি এবং অন্ধ্রের বাসিন্দা শিবা মূলত আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলিকে নিশানা করত। তারা ভিন্‌ রাজ্যের নিঃসন্তান দম্পতিদের সঙ্গেও যোগাযোগে থাকত। দত্তক নিতে আগ্রহী লোকজনের কাছে তারা শিশু পৌঁছে দিত বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।

তদন্তকারীরা জানান, শাসনের ওই দম্পতির সঙ্গে পূর্ব পরিচিতির সূত্র ধরেই শিশুটিকে টাকার বিনিময়ে কেনার প্রলোভন দেখানো হয়। অন্ধ্রের দালাল শিবার কাছে শিশুটিকে পৌঁছে দেয় সোনালি। শিশুটির চার-পাঁচ বার হাতবদল হওয়ার টাকা শিবা, সোনালি-সহ কয়েক জনের মধ্যে ভাগ হয়েছে। সব শেষে তিন লক্ষ টাকায় শিশুটিকে তেলঙ্গানার কঙ্গাল থানার কানাগাল এলাকার বাসিন্দা পি ইয়েল্লাহের কাছে বিক্রি করা হয়। ইয়েল্লাহ এবং শিবাকে সোমবার ট্রানজ়িট রিমান্ডে বারাসতে নিয়ে আসা হয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Barasat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy