দেড় বছরেরও বেশি সময় পরে স্কুলের ঘণ্টা ফের বেজেছে। সে কথা অজানা নয় সান্ডেলেরবিল এবিএস মদনমোহন বিদ্যাপীঠের নবম শ্রেণির ছাত্রী মৌমিতা মুন্ডার। হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম বাঁকড়ার বাসিন্দা মৌমিতার বাবা মারা গিয়েছেন মাস চারেক আগে। মা অসুস্থ। বাড়িতে প্রতিবন্ধী বোন। এই পরিস্থিতিতে ক্লাসঘরে তার ফেরা হবে না, ধরেই নিয়েছে মৌমিতা। কাজের খোঁজে তামিলনাড়ু যাবে বলে ঠিক করেছে সে।
মৌমিতার মা সারথী জানান, আগে গৃহ সহায়িকার কাজ করতেন। করোনা আবহে কাজ চলে যায়। এতদিন মেছোভেড়ি থেকে মাছ ধরে, কখনও অন্যের জমিতে চাষ করে সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ধরা পড়ে, একটি কিডনি খারাপ। আর কাজ করতে পারছেন না। এ দিকে, সংসার খরচ, চিকিৎসার খরচ কী ভাবে জোগাড় হবে— তা নিয়ে দুশ্চিন্তা।
তিনি বলেন, ‘‘মেয়ের পড়াশোনায় আগ্রহ আছে। স্কুলেও যেতে চায়। কিন্তু আমরা অসহায়।’’
মৌমিতার কথায়, ‘‘পড়াশোনার ইচ্ছে থাকলেও টাকার অভাবে তা সম্ভব নয়। রোজগারের জন্য আমি মাকে নিয়ে তামিলনাড়ু যাব ঠিক করেছি। পাড়ার এক কাকু ওখানে কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন বলেছেন। সামনের সপ্তাহেই চলে যাব ভাবছি।’’
মৌমিতার স্কুল সূত্রের খবর, ১৮২ জন পড়ুয়ার মধ্যে স্কুল খোলার প্রথম দিন ৮৯ জন এবং দ্বিতীয় দিন ৪৯ জন ক্লাসে এসেছে। যারা আসেনি, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া ইতিমধ্যে কাজে নিয়ে ভিন্ রাজ্যে চলে গিয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তাঁরা। সে পথেই এ বার পা বাড়াতে চলেছে মৌমিতা।
তবে মৌমিতার পড়াশোনায় যাতে দাঁড়ি না পড়ে, তা নিয়ে উদ্যোগী হয়েছে স্কুল। প্রধান শিক্ষক প্রদীপ সরকার বলেন, ‘‘ওকে কোনও ভাবেই স্কুলছুট হতে দেওয়া যাবে না। স্কুলের পক্ষ থেকে বইখাতা, পেন কিনে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের রোজগারের ব্যবস্থা করার বিষয়ে বিডিওর সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।’’