E-Paper

মৎস্যজীবীদের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বিশেষ করে কাকদ্বীপ এলাকার মৎস্যজীবীদের জন্য মাছ দেশের বড় শহর এবং বিদেশে রফতানির সুযোগ তৈরি করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৯
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিজেপি মৎস্যজীবীদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবে বলে বৃহস্পতিবার কাকদ্বীপ থেকে আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই অঞ্চলে মৎস্যজীবীরা চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীরা পরিশ্রম করেও তাঁদের প্রাপ্য মূল্য পাচ্ছেন না।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে মৎস্যজীবীদের আয় বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কেন্দ্রের বিজেপি সরকারই প্রথম মৎস্যপালনের জন্য পৃথক মন্ত্রক গঠন করেছে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।”

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মাছ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমঘর না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “পরিকাঠামোর অভাবে মৎস্যজীবীরা তাঁদের উৎপাদিত মাছ বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দিতে পারছেন না।” বিজেপির সংকল্প পত্রে বাংলায় মাছের এক্সপোর্ট হাব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে কাকদ্বীপ এলাকার মৎস্যজীবীদের জন্য মাছ দেশের বড় শহর এবং বিদেশে রফতানির সুযোগ তৈরি করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তৃণমূলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যের শাসক দল সমুদ্র উপকূলকে অসুরক্ষিত করে রেখেছে, যার ফলে অনুপ্রবেশকারীরা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তৃণমূলের মদতে উপকূলবর্তী এলাকায় বেআইনি কারবার বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন মোদী। বলেন, “সমুদ্রপথে চোরাচালান শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি দেশের নিরাপত্তার নিরিখেও ভয়ঙ্কর। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলগুলিকে ব্যবহার করে পাচারচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।” বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, সমুদ্রপথে নজরদারি বাড়ানো, চোরাচালান রুখতে কঠোর পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন তিনি।

এ দিন মোদী বলেন, “তৃণমূলের এক বিধায়ক নিজেই নাকি স্বীকার করেছেন যে টাকা নিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হয়েছে। ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি করতে গিয়ে সব সীমা লঙ্ঘন করছে তৃণমূল।” প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগে সংবাদমাধ্যমে কাকদ্বীপের তৃণমূল বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা অভিযোগ করেছিলেন, কাকদ্বীপের কিছু সরকারি আধিকারিক টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশিদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকাচ্ছে।

মন্টুরামের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার বলেন, ‘‘মৎস্যজীবীদের নিয়ে যা ভাবার মুখ্যমন্ত্রী ভাবছেন। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের কল্যাণে একাধিক প্রকল্প চালু রয়েছে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে। উপকূলে কোনও সমস্যা নেই। ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

kakdwip

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy