E-Paper

উধাও ছ’লক্ষ ভূতুড়ে কার্ডধারী

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ২৩ লক্ষ ৪০ হাজারের মত জব কার্ডধারী ছিলেন। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ে এসেছেন ১৯ লক্ষ ৩০ হাজার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ০৭:৪৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

একশো দিনের কাজ নিয়ে দুর্নীতি চলছিল রাজ্য জুড়ে, সে কথা বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বারবার বলে এসেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভুয়ো জবকার্ডধারীর কথা বহুবার শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। কেন্দ্রীয় সরকার এ রাজ্যে একশো দিনের প্রকল্প এক সময়ে স্থগিত রাখে। সঠিক জবকার্ডধারীদের শনাক্ত করতে শুরু হয় বিশেষ স্কুটিনি প্রক্রিয়া। যার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয় ই-কেওয়াইসি।

আর এই কড়াকড়িতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ৫ লক্ষ ৮২ হাজার ৯৯৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। জানা যাচ্ছে, এত মানুষ এই খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়ায় যোগই দেননি। বিডিওরা বারবার ডেকেছেন ই-কেওয়াইসি দেওয়ার জন্য, কিন্তু এই মানুষজন আসেননি বলেই দাবি ব্লক প্রশাসনের। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে ব্লকভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টিকে দুর্নীতির বড়সড় নমুনা বলে দাব করেছে
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এ বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, ২৩ লক্ষ ৪০ হাজারের মত জব কার্ডধারী ছিলেন। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ে এসেছেন ১৯ লক্ষ ৩০ হাজার। সংশ্লিষ্ট বিডিওরা নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য উপভোক্তাদের একাধিকবার সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তাঁরা কেউ আসেননি বলে দাবি প্রশাসনের।

গত প্রায় এক বছর ধরে চলা এই প্রক্রিয়া সম্প্রতি শেষ হয়েছে। তারপরেই প্রশাসনের তরফে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এঁদের ‘ভুয়ো ভোটার’ বা ‘ভূতুড়ে ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ৫,৮২,৯৯৮ জন কার্ডধারীর নাম পাকাপাকি ভাবে বাতিল করার জন্য ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর।

‘ভূতুড়ে’ এই সংখ্যা সব থেকে বেশি কুলপি ব্লকে। সেখানে ৩৬,৭৯৪ জন বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে। পাশাপাশি বারুইপুর, পাথরপ্রতিমা, গোসাবা, বাসন্তী ব্লকেও প্রচুর পরিমাণে ভুয়ো কার্ডধারী বাদ গিয়েছে এই তালিকা থেকে।
ডিজিটাল ফিল্টারিংয়ের এই কড়া পদক্ষেপের জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে এই বিশাল চক্র ফাঁস হয়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরএসপি নেতা সুভাষ নস্কর বলেন, “একশো দিনের কাজে যে চরম দুর্নীতি তৃণমূল করেছে, সেটা বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। প্রকৃত উপভোক্তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ পাননি। এই ফিল্টারিং সত্যিই দরকার ছিল।”

বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সঞ্জয় নায়েক বলেন, “বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী
দলনেতা থাকাকালীন বারবার এই দুর্নীতির কথা তুলে ধরেছেন। তৃণমূল যে কী ভাবে সরকারি টাকা তছরুপ করেছে, এটা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। এবার ১২৫ দিনের কাজ চালু হয়েছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে সেই কাজ মানুষ পাবেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Canning

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy