তিন মাসের বেশি সময় ধরে কার্যত বন্ধ বাংলার শিক্ষা পোর্টাল। এ দিকে, একাদশ ও নবম শ্রেণিতে ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মুখে। এই অবস্থায় পোর্টাল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন পুরুলিয়ার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলি। শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সংগঠন এসটিইএ-র দাবি, সমস্যার কথা তারা বার বার জেলা শিক্ষা দফতরে জানিয়েছেন। কিন্তু সুরাহা হয়নি।
বর্তমানে স্কুলের শিক্ষা সংক্রান্ত এবং ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি বা ভাতার সব কাজই করতে হয় ওই পোর্টালে। ছাত্রছাত্রীরা অন্য কোনও স্কুলে ভর্তি হলেও তাদের ‘ট্রান্সফার সার্টিফিকেট’ পর্যন্তও ওই পোর্টালের মাধ্যমেই দেওয়া হয়। নবম ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন তো আছেই। তরুণের স্বপ্ন, কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রীর মতো নানা প্রকল্পের টাকা পেতে পোর্টালে পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ‘আপলোড’ করা বাধ্যতামূলক। তবে গত এপ্রিল থেকে কোনও কিছুই করা যাচ্ছে না বলে দাবি শিক্ষকদের বড় অংশের।
কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের দাবি, মঙ্গলবারই ছিল একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন। পোর্টাল বন্ধ থাকায় তা করা যায়নি। উচ্চশিক্ষা পর্ষদ সময়সীমা বাড়ালেও সমস্যা কমার ইঙ্গিত নেই। ওই শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, আগামী ৪ অগস্ট পোর্টাল খুলবে। সেই সময়ে একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন করা যাবে বলে জানিয়েছে পর্ষদ। কিন্তু সেই সময়েও মাত্র দশ দিন সময় পাওয়া যাবে। যে সব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা অনেকটাই বেশি, সেখানে সব ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন করা নিয়ে আশঙ্কার কথা শোনাচ্ছে স্কুলগুলি। কয়েক জন প্রধান শিক্ষক বলেন, “এ বারে একাদশ শ্রেণিতে তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে ট্যাব কেনার অর্থ দেওয়া শুরু করতে পারে শিক্ষা দফতর। সে ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ঢুকবে। ওই সময়ে একাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর পোর্টালে আপলোড করতে হবে। কিন্তু পোর্টাল কাজই করছে না।”
এসটিইএ-র পুরুলিয়ার সম্পাদক ললিতকিশোর মাহাতো বলেন, “বেশির ভাগ স্কুলেই করণিক নেই। চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর অভাব রয়েছে। সর্বোপরি ভোগাচ্ছে শিক্ষকের ঘাটতি। এই অবস্থায় মাত্র দশ দিনে একাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। অথচ পোর্টাল খোলা থাকলে হাতে সময় নিয়ে তা করা যেত।” তিনি আরও জানান, সমস্যা জেলা শিক্ষা দফতরের গোচরে আনা হলেও সমাধান হয়নি।
একই কারণে একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনে সমস্যার কথা জানিয়েছেন বাঁকুড়া জেলার বেশ কিছু স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা। বড়জোড়ার এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘দিনের বেলায় একেবারেই পোর্টাল কাজ করছে না। রাতেই সামান্য কিছু কাজ করা যাচ্ছে। তবে রেজিস্ট্রেশনের আসল কাজ হচ্ছে না।’’ সোনামুখীর এক প্রধান শিক্ষক জানান, বাংলার শিক্ষা পোর্টাল ঠিকঠাক কাজ না করলে অনেক কাজেই সমস্যা হয়।
তবে জেলার স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, পোর্টালটি সার্বিক ভাবে রাজ্য থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। জেলার করণীয় কিছু নেই। সমস্যার কথা রাজ্য শিক্ষা দফতরে জানানো হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)