বেড়ানোর জন্য কোনও পার্ক নেই উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসতে। এমনকী আর্ট গ্যালারিও নেই। সাধ্যের মধ্যে ভাড়া পাওয়ার মতো ছোট প্রেক্ষাগৃহেরও অভাব রয়েছে। বাসিন্দাদের দীর্ঘ দিনের এই সব দাবি মেনে বারাসতের হাতিপুকুরে শুরু হল ইকো পার্কের ধাঁচে নতুন একটি পার্ক তৈরির কাজ। এখানে একটি বড় পুকুর আছে। সংস্কার করা হবে পুকুরটি। সেখানে নৌকাবিহারের ব্যবস্থাও থাকবে। তৈরি করা হবে একটি আর্ট হাবও।
বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘চাঁপাডালি বাসস্ট্যান্ডের পাশে হাতিপুকুরে দশ বিঘা জায়গা আছে। সেখানেই এই পার্ক হচ্ছে। থাকবে ছোটদের খেলাধুলার নানা ব্যবস্থাও।’’ পার্কের পাশে একটি ভবন তৈরি করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভাড়া দেওয়া হবে। তা থেকে পুরসভার আয় হবে, জানান সুনীলবাবু। এমনিতেই জায়গাটি গাছগাছালিতে ঘেরা। শোনা যায়, কলকাতা আক্রমণের সময়ে হাতিদের স্নান করাতে নবাব সিরাজদ্দৌলা জলাশয়টি তৈরি করিয়েছিলেন। সুনীলবাবু বলেন, ‘‘সেই ইতিহাস মনে রেখে পার্কে ঢোকার মুখে হাজারদুয়ারির আদলে গেট, ফোয়ারা, ফুলের বাগান করা হবে।’’
পার্কটি তৈরির জন্য প্রাথমিক ভাবে এক কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা ম়ঞ্জুর হয়েছে। বেশিরভাগটাই বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারের সাংসদ তহবিল থেকে এসেছে। প্রকল্পটির শিলান্যাস করে তিনি বলেন, ‘‘এখানে আর্ট হাবে শিল্পীরা এসে ছবি আঁকবেন, ভাস্কর্য গড়বেন। এলাকার স্কুলের ছেলেমেয়েদের ছবি আঁকা, হস্তশিল্প, ভাস্কর্য তৈরির নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও তাঁদের তৈরি শিল্পকর্ম প্রদর্শনের ব্যবস্থাও থাকবে।’’
বারাসতে আর্ট গ্যালারির দাবিতে দীর্ঘ দশ বছর ধরে আন্দোলন করছেন জেলার কয়েক হাজার শিল্পী, কলাকুশলী। বারাসতের চিত্রশিল্পী সুশান্ত সরকার বলেন, ‘‘আর্ট গ্যালারির দাবিতে আমরা অনেক দরবার করেছি। এর চেয়ে সুখবর হতে পারে না।
আমরা আন্তরিক ভাবে এখানে ছেলেমেয়েদের শেখাব।’’ কাজের তদারকি করার ফাঁকে বারাসতের বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, ‘‘পুকুরের মাঝে মঞ্চে নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে স্থানীয় দল। হবে কফিহাউস। পার্কটিকে একটি দর্শনীয় জায়গা করা হবে।’’