Advertisement
E-Paper

নেই আলো, পাশ দিয়ে চলে গেল নম্বরহীন বাইক

রাত তখন ১২টা। দোকানপাট বন্ধ। আলো আছে। বাজিতপুরের দিকে ঢুকতেই দেখা মিলল এটিএমের। কিন্তু সেখানে কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই। রাস্তায় কোনও পুলিশও নেই। হঠাৎ নম্বরহীন একটি বাইকে তিন যুবক পাশ থেকে হু হু করে চলে গেল।

সীমান্ত মৈত্র

শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০১৬ ০২:২০
কোনও পাহারা নেই বাজিতপুর সেতুতে। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক।

কোনও পাহারা নেই বাজিতপুর সেতুতে। ছবি: নির্মাল্য প্রামাণিক।

রাত তখন ১২টা। দোকানপাট বন্ধ। আলো আছে। বাজিতপুরের দিকে ঢুকতেই দেখা মিলল এটিএমের। কিন্তু সেখানে কোনও নিরাপত্তারক্ষী নেই। রাস্তায় কোনও পুলিশও নেই। হঠাৎ নম্বরহীন একটি বাইকে তিন যুবক পাশ থেকে হু হু করে চলে গেল।

রীতিমতো ভুতুড়ে পরিবেশ। দৌরাত্ম্য চলছে শিয়াল কুকুরদের। বাজিতপুর সেতুর উপরে বাতিস্তম্ভ আছে ঠিকই, কিন্তু তাতে আলো জ্বলে না। রাতের এই অভিযানে গোপালনগর-সিন্দ্রাণী প্রায় ২১ কিলোমিটার রাস্তাতে আলোর দেখা খুব কমই মিলেছে। এমনকী, নাটবেড়িয়া বাজারের আগে পর্যন্ত কোথাও পুলিশও চোখে পড়েনি। নিরাপত্তা ও অন্ধকারের কারণে এলাকার বাসিন্দারা সন্ধ্যার পরে খুব প্রয়োজন না হলে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন না।

স্থানীয় মানুষজন জানালেন, ওই এলাকায় আগে বহু চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতীদের আনাগোনাও রয়েছে। সে কারণে মানুষ এই রাস্তায় বেরোতে ভয় পান। স্থানীয় সিন্দ্রাণী এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক শুভঙ্কর সাহা বলেন, ‘‘বনগাঁ থেকে ফিরতে একটু রাত হলেই আমরা এই রাস্তাটি এড়িয়ে চলি। পরিবর্তে বনগাঁ-বাগদা দিয়ে যাতায়াত করি। তাতে ছ’কিলোমিটার রাস্তা বেশি হয়। সময়ও বেশি লাগে। কিন্তু নিরাপত্তার কারণেই আমরা ওই রাস্তাটি রাতে ব্যবহার করি না।’’

ওই সড়কের পাশে একটি বটগাছের তলায় কিছু দেবদেবীর মূর্তি ফেলে রাখা রয়েছে। গা ছমছম পরিবেশ। এলাকার বাসিন্দারা জানান, রাতে ওই এলাকা তাঁরা সচরাচর এড়িয়ে চলেন। নিরাপত্তার কারণ তো আছেই, পাশাপাশি আছে ভূতের ভয়। ভূত সম্পর্কে নানা অলৌকিক গল্পও ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকেই আমরা নানা রকম ভূতুড়ে কাণ্ড-কারখানার কথা শুনেছি। ফলে রাতে আমরা ওই এলাকা এড়িয়ে চলি। তারপরে আলো না থাকায় বেশ ভয় ভয়ই করে।’’

এরপর আসা গেল নাটাবেড়িয়া বাজারে। সেখানে অবশ্য আলোর দেখা মিলল। গার্ডরেল দিয়ে রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ার। দোকানপাট বন্ধ। সেখান থেকে পেত্নিভিটে এলাকা পেরিয়ে শুরু হল গোপালনগর থানা। আগের রাস্তাটুকু ছিল বাগদা থানা এলাকায়। এখানে একটি যাত্রী প্রতীক্ষালয় আছে। তবে আলো নেই। ভূতের উপদ্রব নাকি এখানেও আছে। সেখান থেকে গঙ্গানন্দপুর মামুদপুর হয়ে পৌঁছে গেলাম পাঁচপোতা বাজারে। সেখানে টহল দিচ্ছে পুলিশ গাড়ি। আমাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করলেন তাঁরা। ফলেয়া মোড়, সুন্দরপুর মোড় এলাকা দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু সেখানে অবশ্য কোনও পুলিশ দেখা গেল না। শ্রীপল্লি বাজারে ছিল সিভিক ভলান্টিয়ার। টালিখোলা মোড়ে এসে যাত্রা শেষ করলাম। ঘড়িতে তখন রাত দেড়টা। বাসিন্দারা জানান, মূল সড়কের পাশ দিয়ে গ্রামের মধ্য ঢোকার বহু রাস্তা আছে। দুষ্কৃতীরা সে সব রাস্তা দিয়েই ঢোকে।বনগাঁর এসডিপিও অনিল রায় বলেন, ‘‘রাতে ওই সড়কে পুলিশ নিরাপত্তা থাকে। পুলিশের টহলরত গাড়িও থাকে। বাজার এলাকায় সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়। প্রয়োজনে আরও নিরাপত্তা
বাড়ানো হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy