বাড়ির গাড়ির চালকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছেন স্ত্রী। নিয়ে গিয়েছেন সোনার গয়নাও। পুলিশে এমনই অভিযোগ করেছিলেন ব্যারাকপুরের একটি বিরিয়ানি প্রস্তুতকারী সংস্থার মালিকের ছেলে। তদন্তে নেমে ওই চালক এবং অভিযোগকারীর স্ত্রীকে ধরে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। অন্য দিকে, থানায় এসে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার হতে হয় খোদ অভিযোগকারীকেই! সম্প্রতি বাবার সঙ্গে গোলমালের পরে নতুন বিরিয়ানির দোকান খুলেছেন তিনিও।
অভিযুক্ত চালক সমীর সেন এবং বিরিয়ানি প্রস্তুতকারী সংস্থার মালিকের ছেলে অনির্বাণ দাসকে শুক্রবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে অনির্বাণকে জামিন দেন বিচারক। তবে, সমীরকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
মোহনপুর থানায় দায়ের করা অভিযোগে অনির্বাণ জানিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেন সমীর। ২৪ জানুয়ারি থেকে তাঁদের খোঁজ মিলছে না। সোনার গয়না ও কয়েক লক্ষ টাকাও নিয়ে গিয়েছেন বলে অনির্বাণের অভিযোগ ছিল। তাঁর দাবি, গোপন সূত্রে দু’জনের মুম্বই পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার তিনি বিমানবন্দর থেকে দু’জনকে ধরে ফেলেন। পুলিশ গিয়ে সমীর এবং অনির্বাণের স্ত্রীকে থানায় নিয়ে আসে। গয়না চুরির অভিযোগে সমীরকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, থানায় এসে স্ত্রীকে অনির্বাণ মারধর করেন।
অনির্বাণের স্ত্রীর কথায়, ‘‘আমার সঙ্গে সমীরের সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ বছর ধরে আমাকে মারধর করছেন অনির্বাণ। মাঝে হাত ভেঙে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলাম, শুধরে যাবেন। তা না হওয়ায় বাড়ি ছাড়ি।’’ ওই তরুণীর আরও দাবি, ‘‘থানায় নিয়ে আসা হলেও আমাকে শুক্রবার সকালে আসতে বলা হয়। বাইরে বেরোতেই চুলের মুঠি ধরে মারেন অনির্বাণ।’’ গয়না চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে তরুণীর দাবি, ‘‘ওই সব গয়না আমার বাবা দিয়েছেন। সব বিল আছে।’’ সমীরের স্ত্রীর দাবি, ‘‘অনির্বাণদার স্ত্রী আমাকে মেসেজ করে জানান, সমীরকে বিয়ে করেছেন। ওঁদের দু’জনেরই শাস্তি হওয়া উচিত।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)