পেট্রাপোল বন্দর থেকে বনগাঁ শহরের দিকে বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি খালি ট্রাক যশোর রোডে ধাক্কা মারে একটি যাত্রিবাহী ভ্যানকে। ভ্যানের আরোহীরা ছিটকে পড়েন। দু’জন মারা যান। জখম আরও তিনজন। সামলাতে না পেরে ওই ট্রাকটি সড়কের পাশে ঘুপচি ঘরের উপরে উল্টে পড়ে।
বেপরোয়া ট্রাক চালানো এবং যার জেরে দুর্ঘটনার উদাহরণ কম নয় যশোর রোডে। সব ক্ষেত্রেই অভিযোগ, চালকেরা মদ্যপ অবস্থায় ট্রাক চালাচ্ছিলেন। বা চালকের আসনে বসেছিল খালাসি।
এই প্রবণতা রুখে দুর্ঘটনা কমাতে এ বার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে নজরদারি বাড়াল পুলিশ। পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বেআইনি ট্রাক চলাচলের বিরুদ্ধে ধরপাকড়। ব্রেদ অ্যানালাইজারও ব্যবহার করা হবে এই কাজে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত তিনটি বিষয়ের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। ১। মদ্যপ অবস্থায় ট্রাক চালানো বন্ধ। ২। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া ট্রাক চালানো রোখা। ৩। চালকের বদলে খালাসির হাতে যাতে স্টিয়ারিং না পড়ে, তা দেখা।
ভাস্করবাবু বলেন, ‘‘বেআইনি ভাবে ট্রাক চালানোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দু’দিনে জেলা থেকে মোট ১৫টি ট্রাক আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫ জনকে। যার মধ্যে তিনজন খালাসি। তাদের বিরুদ্ধে মোটর ভেহিকল অ্যাক্টে মামলা রুজুর পাশাপাশি ২৭৯ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যার সর্বোচ্চ শাস্তি ছ’মাস পর্যন্ত জেল।’’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানে থানার ওসি-আইসিরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় নাকা করে তল্লাশি চলছে। যশোর রোড, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, রামনগর রোড, বনগাঁ-চাকদহ সড়ক, বারাসত-টাকি রোড সহ বিভিন্ন রাস্তায় ধরপাকড় চলছে রাতভর। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সড়কের পাশে ধাবাগুলিতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সেখানে মাইকে প্রচারও করা হচ্ছে ট্রাক চালকদের সচেতন করতে। ধাবা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন বেআইনি ভাবে মদ বিক্রি না না করেন। পেট্রাপোল বন্দরে রোজ ভিন রাজ্য থেকে হাজার হাজার ট্রাক চালক পণ্য নিয়ে আসেন। তাঁরা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালান বলে অভিযোগ। ওই সব ট্রাক চালকদের উপরে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার ওই রকম পাঁচটি ট্রাক পুলিশ আটক করেছে। কিন্তু রাতের যশোর রোডে নম্বরপ্লেটহীন বা ধুলোমাখা নম্বর পড়তে না পারার মতো প্লেট লাগানো বেআইনি ট্রাকগুলির কী হবে?
পুলিশ সুপারের দাবি, সেগুলি চোখে পড়লে আগে আটকানো হবে। কিন্তু স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা বলে, রাতের পেট্রোলিংয়ে থাকা পুলিশ কর্মীরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে দশ-বিশ টাকা নিয়ে সেগুলিকে ছেড়ে দেন। রোজই চোখে পড়ে সে সব দৃশ্য। এ বার সেই ‘বন্দোবস্তে’ বদল আনা যাবে?