দীর্ঘ জটিলতার পর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে আশার আলো দেখা গিয়েছিল। গত জানুয়ারিতে রাজ্যের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত উপাচার্যদের নামে সিলমোহর দিয়েছিলেন আচার্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কিন্তু তিন সপ্তাহ পরেও তাঁদের নিয়োগপত্র দিতে পারেনি শিক্ষা দফতর। তার ফলে এখনও ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দায়িত্বভার নিতে পারেননি স্থায়ী উপাচার্যেরা।
কেন এমন হল?
বিকাশ ভবনের দাবি, তারা আচার্যের তরফে কোনও নির্দেশ পায়নি। রাজ্যের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের বিরোধ চলছে গত তিন বছর ধরে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ধাপে ধাপে মিটেছে সেই সমস্যা। গত বছর অক্টোবরে কলকাতা, যাদবপুর-সহ ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী কাজে যোগ দিয়েছেন নতুন উপাচার্যেরা। তার পর জানুয়ারিতে আরও ৬টি বিশ্ববিদ্যালের জন্য রাজ্যপাল উপাচার্যদের নামে সিলমোহর দেন। অভিযোগ, গত ২৭, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি এক্স হ্যান্ডলে তিন দফায় ছয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নাম ঘোষণা করে লোকভবন। কিন্তু তিন সপ্তাহ পরও তাঁদের নামে কোনও সুপারিশপত্র পাঠানো হয়নি বিকাশ ভবনে।
আরও পড়ুন:
বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগের অনুমতি দেবেন আচার্য নিজে। সেই সংক্রান্ত ফাইল উচ্চশিক্ষা দফতরে আসার পর তারা নিয়োগপত্র দেবে। তার পরই কাজে যোগ দিতে পারবেন নবনিযুক্ত উপাচার্যেরা। উচ্চশিক্ষা দফতরের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তাঁদের কাছে লোকভবন থেকে কোনও ফাইল এসে পৌঁছোয়নি। তাই তাঁরা এই নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করতে পারেননি।
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে সিভি আনন্দ বোস-এর এক্স হ্যান্ডেল থেকে যাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল তাঁরা হলেন— উত্তর ২৪ পরগনার হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিমাইচন্দ্র সাহা, সংস্কৃত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধ্যাপক অয়ন ভট্টাচার্য, বাবাসাহেব অম্বেডকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটিতে অরুণাশিস গোস্বামী, উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেবব্রত বসু এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটির জন্য দেবব্রত মিত্র, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ণব সেন।
তবে কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা এবং ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নাম ঘোষণা করেনি লোকভবন। এর বাইরেও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আবুল কালাম আজ়াদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রসঙ্গে কোনও রায় দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বরং এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য নতুন করে নিয়োগ কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে রায়ে।