আর মাত্র ১৮ থেকে ২০ মাসের অপেক্ষা। তার মধ্যেই বাজার কাঁপাবে ভারতীয় ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন। সম্প্রতি এমনটাই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর কথায়, দেশের ভিতরে তো বটেই,
বিদেশের বাজারেও বেশ জনপ্রিয় হবে ওই মুঠোবন্দি ডিভাইস। যদিও তাঁর এ-হেন মন্তব্যের পর উঠে গিয়েছে একাধিক প্রশ্ন। শুধু তা-ই নয়, একে ‘অলীক কল্পনা’ বলে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিরোধীদের একাংশ।
বর্তমানে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ছাপ নিয়ে ঘরোয়া বাজারে বিক্রি হচ্ছে বহু ফোন। কিন্তু সেগুলি যে আদৌ ভারতের তৈরি মুঠোবন্দি ডিভাইস নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায় তা একরকম স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এত দিন চিন থেকে আমদানি করা ফোনের সরঞ্জাম জুড়ে (পড়ুন অ্যাসেম্বলিং) তৈরি হচ্ছিল স্মার্টফোন। সেগুলির গায়েই থাকত ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ট্যাগ। সরকারি ভাবে যা এ বার মানল কেন্দ্র।
গ্যাজেট বিশ্লেষকেরা অবশ্য তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনীর মন্তব্যকে নিয়ে দু’টি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের কথায়, মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ ভারতীয় ব্র্যান্ডের কোনও স্মার্টফোনের পক্ষে কি আদৌ বিশ্ববাজারে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব? তা ছাড়া প্রতিযোগিতার বাজারে আরও কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কেন্দ্রের এই স্বপ্ন। তার মধ্যে অন্যতম হল ফোনের হার্ডঅয়্যারের দাম বৃদ্ধি।
গত কয়েক বছর ধরেই বেশ কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের যাবতীয় স্মার্টফোন নির্মাণকারী সংস্থা। চলতি আর্থিক বছরের (পড়ুন ২০২৫-’২৬) তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বিক্রি কমেছে স্যামসাং ও অ্যাপ্লের মতো টেক জায়ান্টের। এই পরিস্থিতিতে মাঠে নেমেই নিজেদের শক্ত ভিত্তির উপর কী ভাবে প্রতিষ্ঠা করবে ভারতীয় স্মার্টফোন? আদৌ কি ধরে রাখতে পারবে মূল্য থেকে কর্মক্ষমতার অনুপাত (প্রাইস টু পারফরম্যান্স রেশিয়ো)?