শিশুর দাঁত ওঠার সময় থেকেই যত্ন নেওয়া জরুরি। সাধারণত ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে শিশুর প্রথম দাঁত ওঠে। ওই সময়ে মাড়িতে হালকা ব্যথা, চুলকানি হয়ই। তা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু যদি দেখা যায়, দাঁত ওঠার সময়ে মাড়ির যন্ত্রণা প্রবল হচ্ছে, শিশু সারা ক্ষণ কান্নাকাটি করছে, খেতে চাইছে না, তা হলে সতর্ক হতে হবে। অনেক সময়ে মাড়ি ফুলে লাল হয়ে ওঠে, সেই সঙ্গে পেটের গন্ডগোলও শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
প্রথম দাঁত ওঠার সময়ে প্রবল যন্ত্রণা কী কারণে হতে পারে?
প্রথম দাঁত ওঠার সময়ে ব্যথা হয়ই। তবে সংক্রমণের কারণে প্রবল যন্ত্রণা হতে পারে। দাঁত ওঠার সময়ে মাড়ি খুব ফুলে গিয়ে যন্ত্রণা হলে সেই সমস্যাকে বলে ‘ইরাপশন জিঞ্জিভাইটিস’। এটি অনেক শিশুরই হয়। এতে মাড়িতে চুলকানি হয়, ফুলে লাল হয়ে যায়।
ব্যথা বেশি হলে দেখতে হবে মাড়িতে সিস্ট হয়েছে কি না। প্রথম দাঁত ওঠার সময়ে মাড়ির উপরের অংশে ছোট ফুস্কুড়ির মতো হতে পারে। সেখানে রক্ত বা তরল জমে ব্যথা হয়। তবে এটি ওষুধে সেরে যায়।
আরও পড়ুন:
দাঁত যখন অর্ধেক বার হয়, তখন মাড়িতে খাবারের কণা বা ব্যাক্টেরিয়া জমে সংক্রমণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যথা তীব্র হবে, শিশুর খাবার খেতে কষ্ট হবে, পেটের সমস্যাও হতে পারে।
ব্যথা কমাতে কী করবেন?
একটি পরিষ্কার নরম সুতির কাপড় ভিজিয়ে ফ্রিজে রাখুন। কাপড়টি ঠান্ডা হলে তা দিয়ে শিশুর মাড়ি আলতো করে ঘষে দিন। এতে ব্যথা অনেক কমে যাবে।
শিশুদের ফিডারে দুধ খাওয়ালে অনেক সময়েই মুখে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হয়। তাই দুধ খাওয়ানোর পরপরই পরিষ্কার সুতির কাপড় নিয়ে মুখ পরিষ্কার করে দিতে হবে। আলতো করে চাপ দিয়ে মাড়িও পরিষ্কার করে দেবেন। ফিডারের পরিবর্তে শিশুদের চামচ দিয়ে দুধ খাওয়ানোই বেশি ভাল।
নিয়মিত আঙুল দিয়ে শিশুর দাঁত মেজে দিতে হবে। তবে ব্যথা কমানোর কোনও জেল ব্যবহার করবেন না।
দাঁত উঠে গেলে কিছু খাওয়ার পরে অল্প করে জল খাওয়াতে হবে, যাতে অবশেষ ধুয়ে যেতে পারে। কিছু খাওয়ার পরে ভাল করে কুলকুচি করার অভ্যাসও জরুরি।
মিষ্টিজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। শিশুর খাবারে মধু মেশাবেন না বা সরাসরি মধু খাওয়াবেন না।
শিশুরা নিজে দাঁত মাজা শুরু করলে তা ঠিক ভাবে করছে কি না নজর রাখতে হবে। মাউথওয়াশ নয়, টুথপেস্টের ব্যবহার জরুরি।