সদ্য মা হয়েছেন রাইমা। সন্তান হওয়ার পর বন্ধুবান্ধব, বড়রা সকলেই ভয় দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘এই তো রাত জাগার শুরু’। প্রথম দিকে খুব একটা টের না পেলেও ক'টা দিন পর থেকেই রাইমার অবস্থা খারাপ। সারা দিন ধরে সদ্যোজাতর দেখাশোনা করা, বার বার খাওয়ানোর পর রাতে যেই তাঁর একটু চোখ লাগে, তখনই শুরু হয় একরত্তির চিৎকার আর কান্না। কান্না থামিয়ে ঘুম পাড়াতে পাড়াতে কখন যে ভোরের আলো ফুটে যায়, বোঝাই যায় না।
এই সমস্যা কেবল রাইমা এবং তাঁর খুদের নয়, অনেক মা-ই এতে জর্জরিত। যে সব শিশুরা রাইমার সন্তানের চেয়ে বড়, তাদেরও রাতে ঘুম পাড়াতে গিয়ে নাজেহাল হতে হয় মায়েদের। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কয়েকটি টোটকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক অর্পণ সাহা।
খেলাধুলোয় নজর: শিশুরা যত খেলাধুলা করবে ততই ভাল। ছ’মাস পর্যন্ত শিশুরা তেমন ভাবে বসতে পারে না। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে তাদের ‘টামি টাইম’ দিতে হবে অর্থাৎ পেটের উপর ভর করে শোওয়াতে হবে। এতে তাদের হজম ভাল হবে সঙ্গে ঘুমও ভাল হবে। ছ’মাসের পর থেকে শিশুদের সঙ্গে বসে বসে খেলুন। শিশু হাঁটতে শিখলে তাদের যত পারুন হাঁটান। দেড় বছরের পর থেকে শিশুদের বাইরে খেলতে নিয়ে যান। তারা যত খেলাধুলো করবে, ততই তাদের শক্তি ক্ষয় হবে। ফলে তারা ক্লান্ত হয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে। তিন বছরের নীচের শিশুরা যেন দিনে অনন্ত ৩ ঘণ্টা খেলে, সে দিকে বাবা-মায়েদের নজর রাখতে হবে।
খাওয়াদাওয়ায় নজর: ছোট থেকেই শিশুদের বাইরের খাবার থেকে দূরে রাখতে হবে। বাইরের খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার এমনকি প্যাকেটজাত খাবার থেকে যত পারুন দূরে রাখুন শিশুদের। এই সব খাবারে থাকে অতিরিক্ত নুন, চিনি আর ক্যালোরি। এই খাবার খেতে শুরু করলে তারা আর বাড়ির খাবার খেতে চাইবে না। ফলে তাদের শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রায় ভিটামিন, খনিজ যাবে না। আর এতেও তাদের ঘুমের চক্রে ব্যাঘাত ঘটবে। চকোলেট থেকেও তাদের দূরে রাখতে হবে। চকোলেটে ক্যাফিন থাকে। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় চকোলেটে খেলে ঘুমের সমস্যা তৈরি হবে।
মোবাইল, টিভি থেকে দূরে রাখুন: শিশুর ঘুমের চক্র ঠিক করতে চাইলে সবার আগে তাদের স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে। স্ক্রিন টাইম বাড়লে তা স্লিপ হরমোনের উপর প্রভাব ফেলে। শিশুরা অনেক বেশি অলস হয়ে যায়, খেলাধুলার প্রতি তাদের অনীহা তৈরি হয়। শিশুর ঘুম ঠিক তখনই হবে, যখন তারা মোবাইল, টিভির ব্যবহার কমাবে। ওদের ঘুমোনোর ঘণ্টা দুয়েক আগে থেকে টিভি এক দম বন্ধ রাখুন। ফোনও ছুঁতে দেবেন না। এই বিষয়ে কিন্তু অভিভাবকদের কড়া হতেই হবে।