Advertisement
E-Paper

ভাঙা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত

কোথাও বা পিচ উঠে গিয়ে ইট বেরিয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে বড় বড় গর্ত। যেখানে জল জমে ছোট ডোবার আকার নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা প্রকল্পে তৈরি হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিঙের হবির মোড় থেকে বারুইপুরের জামতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০১৬ ০৬:৫৬
এই হাল রাস্তার।  নিজস্ব চিত্র।

এই হাল রাস্তার। নিজস্ব চিত্র।

কোথাও বা পিচ উঠে গিয়ে ইট বেরিয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও দেখা যাচ্ছে বড় বড় গর্ত। যেখানে জল জমে ছোট ডোবার আকার নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা প্রকল্পে তৈরি হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিঙের হবির মোড় থেকে বারুইপুরের জামতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তা। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে তা সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার অবস্থা খারাপ। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নানা মহলে আবেদন নিবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি। অথচ এই রাস্তার উপরে নির্ভরশীল হবিরমোড়, কোচিয়ামারা, মেরিগঞ্জ, হেড়োভাঙা, গোলাবাড়ি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ।

সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা বলেন, ‘‘ভোটের কারণে ওই রাস্তার কাজ করা যায়নি। সুন্দরবন উন্নয়ন দফতরের টাকায় ওই রাস্তা সংস্কারের জন্য টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।’’ জেলাশাসক পিবি সালিম বলেন, ‘‘রাস্তাটি যে খারাপ তা আমার নজরে এসেছে। কী ভাবে দ্রুত সংস্কার করা যায় তা দেখা হচ্ছে।’’

Advertisement

এই সব এলাকার মানুষ বাসে, ট্রেকারে, অটোতে করে এই রাস্তা দিয়ে এসে খুব সহজে ক্যানিং স্টেশন থেকে ট্রেনে কলকাতায় যেতে পারতেন। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে এই রাস্তা খারাপ হওয়ায় ঠিকঠাক গাড়ি চলাচল করে না। এসডি-৪১ বাসটি বাসন্তীর আমলামেথি থেকে বারুইপুরের জামতলা বাজার পর্যন্ত এই রাস্তা দিয়ে যায়। রাস্তা খারাপের কারণে প্রায়শই খারাপ হয়ে যাচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। বাস মালিকেরা এই রুটে বাস চালাতে চাইছেন না। এই রুটে এমনিতেই ১২-১৪টি বাস আছে। খারাপ রাস্তার কারণে ওই বাসগুলিও নিত্য চলাচল করে না বলে সমস্যা হচ্ছে যাত্রীদের। সারা দিনে মাত্র ৫টি বাস এখন ওই রুট দিয়ে যাতায়াত করে।

এই রুটের বাস মালিক ইউসুফ সর্দার, অমিতাভ মণ্ডল বলেন, ‘‘ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে বাস কিনেছি। কিন্তু রাস্তার যা অবস্থা তাতে বাস চালানো যাচ্ছে না। যাত্রীদের কথা ভেবে বাস চালাতে গিয়ে বার বার যন্ত্রাংশ খারাপ হচ্ছে। লাভের মুখ তো দেখছিই না। উল্টে লোকসান হচ্ছে।’’

শুধু বাসই নয় অটো, ট্রেকারও ঠিকমতো পাওয়া যায় না বলে বাসিন্দারা জানান। ফলে নিত্যযাত্রীদের ভরসা রিকশা, মোটর ভ্যান। অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও গন্তব্যে পৌঁছনোর একমাত্র সম্বল সেগুলিই। বেশিরভাগ সময়ে রাতের অন্ধকারে বড় বড় গর্তে উল্টে যাচ্ছে রিকশা, মোটর ভ্যান। জখমও হচ্ছেন কেউ কেউ।

সম্প্রতি জেলার এক তৃণমূল নেতা এই রাস্তা দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কাজে কুলতলি যাচ্ছিলেন। খারাপ রাস্তার কারণে মাঝপথে তাঁর গাড়ি খারাপ হয়ে যায়। বিরক্তিতে নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এই এলাকার নেতারা যে কী করেন বুঝি না। এ সবের জন্যই এ বার আমাদের কুলতলি বিধানসভা হাতছাড়া হল।’’

স্থানীয় বাসিন্দা আমজেদ শেখ, পালান সর্দাররা বলেন, ‘‘রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই।’’ এই রাস্তা সংস্কারের দাবিতে বহু বার রাস্তা অবরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কিছু হয়নি বলে জানান

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy