Advertisement
E-Paper

cyclone Jawad: ঝড় মোকাবিলায় চলছে প্রস্তুতি

মানুষকে সচেতন করতে মাইকে প্রচার চলছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৭:৪৩
প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা প্রচার। নামখানায়।

প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা প্রচার। নামখানায়। ছবি: সমরেশ মণ্ডল।

বঙ্গোপসাগরে ঘণীভূত নিম্নচাপের জেরে ফের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে। দুই ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাষও রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দুই ২৪ পরগনার প্রশাসন। মানুষকে সচেতন করতে মাইকে প্রচার চলছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। সতর্ক করা হচ্ছে চাষিদেরও।

দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতিমধ্যে মহকুমা, ব্লক প্রশাসন-সহ সমস্ত দফতরের সঙ্গে বৈঠক করেছে জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন মৎস্যবন্দর ও নদী তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি হয়েছে। যাঁরা গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের ফিরে আসতে বলা হয়েছে। অনেক মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্র থেকে ইতিমধ্যেই ফিরে এসেছে।

কৃষি দফতরের তরফেও চাষিদের সতর্ক করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে অনেক চাষি এখনও আমন ধান ঘরে তোলেননি। তাঁদের দ্রুত জমি থেকে ধান তুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রশাসনের সতর্কবার্তা পেয়ে অনেকেই ধান কাটার কাজ শুরু করেছেন।

কাকদ্বীপের চাষি শেখ জলিল জানান, এর আগে পর পর দুর্যোগে প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। অনেক কষ্টে ধানের বীজ সংগ্রহ করে চাষ করেছিলেন। আবার ঝড়ে চাষ নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতি তো হবেই, সারা বছর খাওয়া জুটবে কী করে, সেই চিন্তায় আছেন তিনি। দ্রুত ধান তোলা শুরু করেছেন। অনেক চাষি আবার জানালেন, এখনও ধান পুরোপুরি পাকেনি। ফলে এখনই তোলা সম্ভব নয়। সমস্যায় পড়েছেন আনাজ চাষিরাও। দুর্যোগের জেরে খেত থেকে আনাজ তুলে নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু চাষিরা জানান, শীতকালীন অনেক আনাজ এখনও তোলার মতো হয়নি। ফলে মাঠেই ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। হাসনাবাদের বরুণহাটের বাসিন্দা ফজের অলি জানান, মহাজনের থেকে ধার নিয়ে আনাজ চাষ করেছেন। চাষ না হলে বড় ক্ষতি হতে পারে।

কাকদ্বীপের মহকুমাশাসক অরণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আজ, শুক্রবার নদী উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ২৫ হাজার মানুষকে সরানো হবে। তাঁদের জন্য ৮৭টি আশ্রয় শিবির প্রস্তুত করা হয়েছে। খাওয়া-দাওয়ার জন্য ২৭টি কিচেন চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি দেখে তা বাড়ানো হতে পারে।

বসিরহাটের মহকুমাশাসক মৌসম মুখোপাধ্যায় জানান, নদী-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সন্দেশখালি ২ ব্লকে পৌঁছে গিয়েছে ১৮ সদস্যের এনডিআরএফের একটি দল। নামখানা এবং কাকদ্বীপেও এনডিআরএফ দল পাঠানো হয়েছে। সাগর এবং পাথরপ্রতিমায় পাঠানো হয়েছে এসডিআরএফ দলকে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy