একবার হাতছাড়া হয়ে হালিশহর পুরসভা ফের তৃণমূলের হাতে এসেছে। কিন্তু গত এক বছর ধরে এই পুরসভার উপ পুরপ্রধানের পদটি খালি। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু দফতর উপ পুরপ্রধানের হাতে ছিল। তার মধ্যে কর এবং মিউটেশন অন্যতম। উপ পুরপ্রধানের হাতে থাকা আরও কিছু দফতরের কাজ আপাতত পুরপ্রধান সামলাচ্ছেন।
হালিশহরে উপ পুরপ্রধান পদটি নিয়ে বিতর্ক বহু দিনের। এক সময়ে এই চেয়ারে বসতেন রাজা দত্ত। গত বিধানসভা ভোটের পর তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিভিন্ন অভিযোগ এবং স্থানীয়দের ক্ষোভে দীর্ঘ দিন এলাকা ছাড়া ছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় দু’বছর ওই পদে কেউ নেই। অথচ তৃণমূল নতুন করে ওই পদে কাউকে বসায়ওনি। ফলে পুরসভায় বিভিন্ন কাজে আসা লোকেদের প্রচুর ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিক্ষোভের ফলে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হলেও সে সময়ে পদ থেকে রাজাকে সরায়নি দল। কিন্তু গত লোকসভা ভোটের আগে রাজা বিজেপিতে যাওয়ার পরে পুরসভার পদ খোওয়াতে যায়। তারপরেও ওই পদে কাউকে বসানো হয়নি। দলীয় সূত্রের খবর, ওই পদে নতুন কাউকে বসালে দলের কাউন্সিলরদের মধ্যে বিদ্রোহ হতে পারে। সে কারণেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে পদ খালি রেখে দেওয়া হয়েছে।
কেন কাউকে ওই পদে বসানো হচ্ছে না?
নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেন, ‘‘বিষয়টি দলের উপর মহলে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু আইনি পরামর্শেরও ব্যাপার রয়েছে বলে সময় লাগছে।’’
এ দিকে, কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, রাজা ফের তৃণমূলে ফিরতে পারেন। ইতিমধ্যে তৃণমূলের কয়েক জন নেতার সঙ্গে তাঁর নাকি কথাও হয়েছে। তবে কোনও পক্ষই তার সত্যতা স্বীকার করেনি। রাজা বলেন, ‘‘আমি বাম আমলে বিরোধী রাজনীতি করেছি। যখন বিজেপিতে গিয়েছি, বিরোধী রাজনীতি করব বলেই গিয়েছি। কিছু পেতে যাইনি। ফলে আমি বিজেপিতেই রয়েছি।’’
হালিশহর একটা সময়ে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল। সে সময়ে তৃণমূলের তৎকালীন ‘নম্বর টু’ মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন রাজা। মূলত তাঁর ‘স্নেহে’ উপ পুরপ্রধানের পদ পেয়েছিলেন। পরে মুকুল দল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। এই পরিস্থিতিতে নানা কারণে দলের অন্দরে চাপে পড়েন রাজা। পদ না গেলেও গণবিক্ষোভে তাঁকে এলাকা ছাড়তে হয়েছিল।
লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন রাজা। তার পরেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর দীর্ঘ দিন অনুপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে উপ পুরপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। দীর্ঘ দিন অনুপস্থিত থাকার পরে লোকসভা ভোটের মুখে এলাকায় ফেরেন রাজা।
লোকসভা ভোটের পরে পরেই পুরসভা হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। পুরপ্রধান-সহ তৃণমূলের সিংহভাগ কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দেন। বোর্ড উল্টে গেলেও রাজা উপ পুরপ্রধানের ঘরে বসেই কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকেন। যদিও তাঁকে আগেই পুর ও নগরোয়ন্নন দফতর চিঠি দিয়ে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল।
কিছু দিনের মধ্যেই ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল। তবে উপ পুরপ্রধানের পদে এ বার আর কাউকে বসানো হয়নি।
পুর আধিকারিকেরা বলছেন, এমন অনেক বিষয় থাকে, পুরপ্রধান না থাকলে উপ পুরপ্রধানের মতামত বা স্বাক্ষর সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ওই পদে কেউ না থাকায় প্রশাসনিক কাজে অসুবিধা হচ্ছে।