কিসান ক্রেডিট কার্ডের ধাঁচে এ বার রাজ্যে চালু হবে মৎস্যজীবীদের ক্রেডিট কার্ড।
বৃহস্পতিবার হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা ঘোষণা করেছেন। কৃষকদের মতো মৎস্যজীবীরাও ব্যাঙ্ক থেকে সহজ কিস্তিতে ঋণ পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষকদের জন্য আলাদা ক্রেডিট কার্ড থাকলেও মৎস্যজীবীদের কাজটা আলাদা। তাঁদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে আলাদা ক্রেডিট কার্ড হবে।
গত তিন বছরের মধ্যে এ বার সব থেকে কম ইলিশ উঠেছে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের জালে। সঙ্কটে অনেকেই। হাজারের বেশি ট্রলার জলে নামেনি। এ দিকে, ডিজেলের দাম প্রচুর বেড়েছে।
কাকদ্বীপ মহকুমায় তিন হাজারের বেশি মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। লক্ষাধিক মৎস্যজীবীর জীবিকা জড়িয়ে এর সঙ্গে। এই সঙ্কট থেকে কী ভাবে মুক্তি পাবেন, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন ট্রলার মালিকেরা। তেলের ভর্তুকির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল মৎস্যজীবী সংগঠনগুলি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আশ্বাস মেলেনি। অবশেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৎস্যজীবীদের জন্য ক্রেডিট কার্ড ঘোষণা করলেন। এ বিষয়ে কাকদ্বীপ ফিসারম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, ‘‘প্রতি ট্রিপে সমুদ্রে যেতে একটি ট্রলারের জ্বালানি, বরফ নিয়ে খরচ হয় লক্ষাধিক টাকা। মাছ না পেলে পুরো টাকাটাই জলে যায়। অনেকে বাজার থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে ট্রলার নামিয়েছিলেন।’’
বিজন বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা শুনেছি। এতে আমাদের অনেকটাই সুবিধা হবে। এ বার থেকে বছরে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখতে পাব।’’
নামখানার ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যজীবী সঞ্জয় দাস বলেন, ‘‘সরকারের ঘোষণায় আমরা খুশি। এরপরে বাজার থেকে আর চড়া সুদে ঋণ নিতে হবে না।’’ সাগরের মৎস্যজীবী বাদল দাস জানান, ক্রেডিট কার্ড হলে বছরের শেষে লাভের মুখ দেখতে পাব। না হলে সারা বছর মালিকদের কাজ থেকে চড়া সুদে ধার নিয়ে পরিশোধ করতে পারি না। এ ক্ষেত্রে এই কার্ড হলে সেই সমস্যা আর হবে না আমাদের।’’
জেলা অতিরিক্ত মৎস্য আধিকারিক (সামুদ্রিক) জয়ন্ত প্রধান জানান, এর আগে মৎস্যজীবীদের জন্য কিসান ক্রেডিট কার্ড চালু ছিল। কিন্তু তাতে মৎস্যজীবীদের মধ্যে তেমন সাড়া মেলেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৎস্যজীবীদের জন্য নতুন করে ক্রেডিট কার্ড ঘোষণা করেছেন। সরকারি বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পরে বন্দরে বন্দরে গিয়ে এ নিয়ে প্রচার করা হবে।