Advertisement
E-Paper

শিক্ষাখাতে বাজেট ছাঁটাই কি ‘অশনিসঙ্কেত’

মিড-ডে-মিল থেকে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, সব ক্ষেত্রেই বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি দীর্ঘ দিনের। কিন্তু তা তো এ বার বাজেটে বাড়েইনি, বরং আগামী অর্থবর্ষের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৫:৫৮
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

সমস্যার কথা মানছেন সকলে। কেউ বলছেন, শিক্ষার বেসরকারিকরণের দিকে ঝুঁকছে কেন্দ্র সরকার। কেউ বলছেন, শিক্ষাখাতে ব্যয় বরাদ্দ হ্রাস আসলে কোভিড মোকাবিলা করার জন্য সাময়িক পদক্ষেপ। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ইতিমধ্যে আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন সিপিএমের শিক্ষক সংগঠনেন নেতারা।

মিড-ডে-মিল থেকে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, সব ক্ষেত্রেই বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি দীর্ঘ দিনের। কিন্তু তা তো এ বার বাজেটে বাড়েইনি, বরং আগামী অর্থবর্ষের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ শিক্ষক মহল। বরাদ্দ কমলে পরিকাঠামো খাতেও অর্থ কমবে বলে আশঙ্কা করছেন অধিকাংশ শিক্ষক। তাঁদের মতে, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো না শুধরোলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জায়গা ছেড়ে দেওয়া হবে। যে ভাবে বিএসএনএলের নড়বড়ে পরিকাঠামোর সুযোগ নিয়ে টেলিকমে বেসরকারি সংস্থাগুলি জাঁকিয়ে বসেছে।

উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূলের মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সম্রাট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই বাজেট যে দিশাহীন, তা শিক্ষায় বরাদ্দ ছাঁটাই হওয়াতেই বোঝা যাচ্ছে। শিক্ষায় বর্তমান পরিকাঠামো কেমন, তা কেন্দ্র সরকারের জানা নেই। পরিকাঠামো একটু ভাল করতে গেলে কত অর্থের প্রয়োজন, তা-ও তাঁদের অজানা। সরকার আসলে সব কিছু বেচে দিতে চাইছে।’’ সিপিএমের নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির উত্তর ২৪ পরগনার সম্পাদক সুরঞ্জিত দেব বলেন, ‘‘যে সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর বদলে ছাঁটাই করে, তাঁদের উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। শিক্ষায় বেসরকারিকরণ হলে, অর্ধেক বেতনে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে। শোষণের আর একটা দিক খুলে দেওয়া হচ্ছে।’’ শীঘ্রই তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিজেপির শিক্ষক সেলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার আহ্বায়ক দীপ্তকুমার লস্কর অবশ্য বলেন, “জাতীয় শিক্ষা নীতি রূপায়ণ এই সরকারের লক্ষ্য। ফলে বরাদ্দ ছাঁটাই সাময়িক। অর্থনীতির স্বার্থেই এটা করা হয়েছে। এতে মানুষ ক্ষুব্ধ বলে মনে হয় না।’’ তবে এ নিয়ে সরব সুন্দরবন এলাকার শিক্ষকেরা। সারা বাংলা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির রাজ্য সম্পাদক অমল নায়েক বলেন, ‘‘সাধারণ বাড়ির ছেলেমেয়েরা যাতে লেখাপড়া সমান সুযোগ যাতে পায়, সে দিকে তাকিয়ে এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত ছিল।’’ বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সাধারণ শিক্ষার মধ্যে রাখার দাবি করা হয়েছিল। তাতে শিক্ষার সঙ্গে বেকারত্ব দূর করতে বড় পদক্ষেপ হত বলে অনেকের মত। কিন্তু বাজেটে সেই প্রস্তাবও মানা হয়নি। বড় অংশের শিক্ষকেরা মনে করছেন, মিড-ডে-মিল থেকে শুরু করে গবেষণাতেও বাজেট ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়বে। (শেষ)

BJP TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy