Advertisement
E-Paper

ব্যাগে বিয়ের কার্ড নিয়ে প্রচারে যাচ্ছেন সুভাষ নস্কর

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে পারিবারিক আত্মীয়তার কানাঘুষো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রার্থী। তাই সঙ্গে করে নিয়ে ঘুরছেন ৪৩ বছর আগেকার বিয়ের কার্ড। বলছেন, ‘‘আমার সঙ্গে কোনও আত্মীয়তা নেই ওঁর। আমাকে উনি চাকরিও দেননি!’’

সামসুল হুদা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০০:৩৯

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে পারিবারিক আত্মীয়তার কানাঘুষো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রার্থী। তাই সঙ্গে করে নিয়ে ঘুরছেন ৪৩ বছর আগেকার বিয়ের কার্ড। বলছেন, ‘‘আমার সঙ্গে কোনও আত্মীয়তা নেই ওঁর। আমাকে উনি চাকরিও দেননি!’’

ভোটের বাজারে এ হেন বিতর্ক ঘুরছে বাসন্তীর আরএসপি প্রার্থী সুভাষ নস্করকে ঘিরে। ওই কেন্দ্রে এ বার তৃণূমল প্রার্থী সত্তরোর্ধ গোবিন্দ নস্কর। যিনি নাকি সম্পর্কে সুভাষবাবুর শ্বশুর, তৃণমূল শিবির থেকে এমন রটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। ভোটারেরা সুভাষবাবুকে প্রশ্নও করছেন বেমক্কা।

আরও প্রচার চলছে, গোবিন্দবাবুর হাত ধরেই নাকি রাজনীতিতে আসেন সুভাষবাবু। তাঁর পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করার জন্য সুভাষবাবুকে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকের চাকরিও দেন গোবিন্দবাবু। এ সব অনভিপ্রেত প্রসঙ্গ এড়াতে শুধু মুখের কথায় কাজ হচ্ছে না, বিলক্ষণ টের পাচ্ছেন সুভাষবাবু। যে কারণে নিজের বিয়ের কার্ড ঝোলায় নিয়ে ঘুরছেন। প্রয়োজনে বের করেও দেখাচ্ছেন।

বাসন্তী কেন্দ্র থেকে মোট সাত বার বিধায়ক হয়েছেন সুভাষবাবু। প্রায় দশ বছর রাজ্যের সেচমন্ত্রী ছিলেন। অন্য দিকে, ১৯৭২ সালে কংগ্রেসের টিকিটে প্রথম রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও পরে শিক্ষামন্ত্রী হন গোবিন্দবাবু। পরে সুন্দরবন উন্নয়ন দফতর তৈরি হলে সুন্দরবন মন্ত্রীও হয়েছিলেন। এ হেন দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার নিয়ে জমজমাট বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্র।

বাজারে খবর, এরই মধ্যে তৃণমূলের একাংশ নাকি বলছে, এ বার জামাই-শ্বশুরের নির্বাচনী লড়াই হচ্ছে এই কেন্দ্রে। নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে প্রতিনিয়ত এ নিয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে সুভাষবাবুকে। কয়েকদিন আগেই বাসন্তীর ত্রিদিবনগরের এক যুবক সুভাষবাবুকে প্রশ্ন করে বসেন, ‘‘দাদা আপনি কি গোবিন্দ নস্করের জামাই?’’ একটু বিরক্তই হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বুঝে নেন, উত্তর দিতে হলে শক্ত প্রমাণ চাই। সে জন্যই খুঁজেপেতে বের করেছেন নিজের বিয়ের কার্ড। সেখানে শ্বশুরবাড়ির পরিচয় বিস্তারিত লেখা আছে। যাতে বোঝা যায়, সুভাষবাবুর শ্বশুরমশাই আর যে-ই হোন, গোবিন্দ নস্কর নন।

শোভারানি হালদারকে বিয়ে করার বছর দু’য়েক পরে তিনি পেটুয়াখালি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকের চাকরি পান বলে জানালেন সুভাষবাবু। তখন ক্যানিঙের কংগ্রেসের বিধায়ক বর্তমানে বাসন্তীর তৃণমূল প্রার্থী গোবিন্দ নস্কর। আদতে বাসন্তীর ছেলে হলেও পড়াশোনার জন্য সুভাষবাবুকে গোবিন্দবাবুর এলাকায় থাকতে হতো বলেও জানালেন এই প্রবীণ বাম নেতা।

দু’জনের আত্মীয়তা নেই, সে কথা মানছেন গোবিন্দবাবুও। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর দাবি, ‘‘কে কী বলছেন আমি জানি না। তবে সুভাষবাবু আমার আত্মীয় না হলেও আমি ওঁকে চাকরি দিয়েছিলাম।’’

এর উত্তরে সুভাষবাবু পাল্টা বলছেন, ‘‘গোবিন্দবাবু আমার পিতৃতুল্য, পরম শ্রদ্ধার মানুষ। কিন্তু ওঁর পরিবারের সঙ্গে আমার কোনও সূত্রেই আত্মীয়তা নেই। আমি যেহেতু কংগ্রেসের আমলে চাকরি পেয়েছি, তাই বলা হচ্ছে, উনি আমাকে চাকরি দিয়েছিলেন। যা সত্য নয়। আমি নিজের যোগ্যতাতেই চাকরি পেয়েছি।’’ তিনি জানান, তাঁর শ্বশুরের নাম দুখীরাম হালদার। যিনি বাসন্তীর ১০ নম্বর কুমড়োখালির বাসিন্দা ছিলেন। বহু দিন গত হয়েছেন।

বাসন্তীর ভোটের ময়দান আপাতত জমে উঠেছে এই তরজায়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy