ক্লাসরুমে শিশুরা বসে, সামনে দাঁড়িয়ে রাঁধুনি দিদি। দূরে, গ্রামের বাইরে মাঠে ঘুরে ঘুরে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করছেন তিন শিক্ষক!
এই পরিস্থিতি মৌসুনি দ্বীপে। স্কুল চলছে, কিন্তু পড়াশোনা নেই। শিক্ষকেরা আছেন, কিন্তু স্কুলে নেই। শিক্ষকের অভাবে মিড-ডে মিলে রান্না করা হাতেই তুলে নিতে হচ্ছে চক-ডাস্টার। পরীক্ষা দরজায়, অথচ কুসুমতলা পশ্চিম অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা দিন কাটাচ্ছে শিক্ষক-বিহীন ক্লাসে।
মৌসুনি দ্বীপের প্রত্যন্ত এই বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা মাত্র ১৫ জন। কিন্তু এই ছোট্ট স্কুলই আশ্রয় গ্রামে। তিন জন শিক্ষক থাকলেও সকলেই এখন ব্যস্ত এসআইআর-এর কাজে। ক্লাসরুমে এসে বসে থাকছে পড়ুয়ারা। কয়েক দিন ধরে ঠিক মতো মিড-ডে মিলও দিতে পারেনি রাঁধুনি। সারা দিন বসে থাকা, দুষ্টুমি করা আর মাঝে মধ্যে কান্নাকাটি— এই দৃশ্যই এখন নিয়মিত হয়ে গিয়েছে ওই স্কুলে।
এ অবস্থায় শিশুদের দেখভালের ভার এসে পড়ে রাঁধুনি অনুমতি মণ্ডলের উপরে। রান্নার কাজ সামলে, কখনও চাল-ডাল ধুয়ে, কখনও আনাজ কেটে, আবার কখনও চক-ডাস্টার হাতে নিয়ে পড়ুয়াদের সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে তাঁকেই। অনুমতির কথায়, ‘‘শিক্ষক নেই, তাই বাচ্চাদের একা রাখা যায় না। তারা দুষ্টুমি করলে আঘাত পেতে পারে। আমি যা একটু জানি, মুখে মুখে পড়িয়ে দিই। কাজটা আমার নয়, কিন্তু শিশুদের ফেলে রাখা যায় না।’’
তাঁর এই দায়বদ্ধতা গ্রামবাসীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে জমছে ক্ষোভ। অভিভাবক প্রতিমা মণ্ডল, করুণা মণ্ডলেরা বলেন, ‘‘রাঁধুনি দিদি চেষ্টা করছেন ঠিকই, কিন্তু বাচ্চাদের তো নিয়মিত পড়াশোনা দরকার। সামনে পরীক্ষা, কিন্তু ক্লাসই তো হচ্ছে না!’’ এক অভিভাবকের কথায়, ‘‘দ্বীপ এলাকায় থাকি বলেই কি আমাদের সন্তানদের কম গুরুত্ব দেওয়া হবে? অবিলম্বে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ বা অন্য কোনও বিকল্প ব্যবস্থা করা হোক।’’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ প্রামাণিক অবশ্য পরিস্থিতিকে সাময়িক বলে ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘আমরা এসআইআর-এর কাজের চাপের মধ্যেও স্কুলে ঢুকে হাজিরা দিচ্ছি। এসআইআর-এর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই নিয়মিত ক্লাসে ফিরতে পারব বলে আশা করছি।’’
নামখানার বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, ‘‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ওই সার্কলে স্কুলের যিনি এসআই আছেন, ওঁর সঙ্গে কথা বলে কিছু ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা আমরা দেখছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)