পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচে হেঁশেলের আগুন নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বিভিন্ন রেস্তরাঁয়। বাণিজ্যিক গ্যাসের আকালের জেরে বেশ কিছু ছোট খাবারের দোকান ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
বিরিয়ানির জন্য বিখ্যাত ব্যারাকপুর। যা এখন লোকমুখে ‘বিরিয়ানিপুর’ নামেও পরিচিত। ব্যারাকপুরে নামী দোকানের পাশাপাশি এখন রাস্তার খাবারেও জায়গা দখল করেছে বিরিয়ানি। পুর এলাকায় রয়েছে পাঁচশোর বেশি খাবারের দোকান। কিন্তু বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিপদে পড়েছে সেগুলি। বিরিয়ানির বড় দোকানগুলির মালিকদের দাবি, অতিরিক্ত ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ করে কিছু সিলিন্ডার আপাতত জোগাড় হলেও সপ্তাহ কাটবে না। হিটারে রান্না করা গেলেও তাতে বিদ্যুতের খরচ অনেক। আর ইন্ডাকশন কুকটপে বেশি পরিমাণ রান্না করা সহজ নয়। তা ছাড়া, ওই পদ্ধতিতে অনেকগুলি ইন্ডাকশন লাগবে। আবার, শহরের মধ্যে ছোট দোকানে কাঠ বা কয়লার উনুন জ্বালিয়ে রান্না নিষেধ।
ব্যারাকপুর স্টেশনের কাছেই একাধিক বিরিয়ানির দোকান সঞ্জীব সাউয়ের। তিনি বললেন, ‘‘বিরিয়ানি কাঠের উনুনে তৈরি হলেও অন্য পদ গ্যাসে রান্না হয়। সব সিলিন্ডার শেষ। হিটারও এখন সহজলভ্য নয়। আমরা খাবারের দাম বাড়াইনি, পরিবর্তে লাভের অংশ কমিয়ে দোকানের আড়াইশো কর্মীকে ভোর থেকে বিভিন্ন শিফ্টে কাজ ভাগ করে দিয়েছি। কাঠের উনুনে একটানা রান্না হচ্ছে।’’ একই কথা জানিয়েছেন আর একটি দোকানের মালিক বাপি দাস। তাঁর কথায়, ‘‘কাঠ মজুত করতে হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে। আমাদের সব দোকানেই জায়গা আছে বলে এটা সম্ভব। যাঁদের নেই, খুবই সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা।’’
বি টি রোডের ধারে ছোট্ট দোকানে দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে বিরিয়ানি বিক্রি করছেন তরুণ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবারই দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করেছেন গ্যাসের অভাবে। কেটারিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সৌগত বন্দ্যোপাধ্যায় অথবা হাসপাতালে খাবার সরবরাহকারী শান্তনু মণ্ডলেরা বললেন, ‘‘বরাত নিয়ে বসে আছি। কিন্তু রান্না হবে কী ভাবে, জানি না।’’
প্রায় ৩০টি রুটির দোকান রয়েছে লালকুঠি থেকে দেবপুকুর পর্যন্ত। তার একটির মালিক তৃপ্তি সরকারের আয়ের অনেকটা যায় স্বামীর চিকিৎসায়। তিনি বলছেন, ‘‘দোকান বন্ধ করে দিয়েছি। বেশি টাকা দিয়ে গ্যাস নিয়ে লাভ করব কী ভাবে?’’
গ্যাসের ডিলার ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম বিক্রেতা, সোদপুরের প্রবীর তালুকদারের কথায়, ‘‘শুনলাম, কেন্দ্র বলেছে, জ্বালানির সঙ্কট নেই! কিন্তু আমরা তো দিশা পাচ্ছি না। বাণিজ্যিক গ্যাস নেই। তবে, ১৪ কেজির গার্হস্থ্য সিলিন্ডার দিনে ৩৪২টি করে ঢুকছে গুদামে। তবে, তাতে সুরাহা হচ্ছে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)