রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের বছরে গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনের পরিষেবা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াচ্ছে রেল। মেলা উপলক্ষে যেখানে গত বছর যেখানে ৭২টি বিশেষ ট্রেন চালিয়েছিলেন রেল কর্তৃপক্ষ, সেখানে চলতি বছরে ওই সংখ্যা এক ধাক্কায় বাড়িয়ে ১২৬টি করার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, অন্য বছরে ছ’দিন বিশেষ ট্রেনের পরিষেবা চালু থাকলেও এ বার সাত দিনই ওই পরিষেবা মিলবে বলে জানিয়েছে রেল। মেলা উপলক্ষে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ ট্রেনের পরিষেবা চালু থাকবে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যান্য বার রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ এবং নামখানার মধ্যে কোনও ট্রেন চলাচল করত না। তবে, চলতি বছরে পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য ওই সময়েও ট্রেন চলবে বলে রেল সূত্রের খবর। শিয়ালদহ থেকে রাত ১২টা ১মিনিট, রাত ১টা ২৩ মিনিট এবং রাত ২টো ৫৫ মিনিটে বিশেষ ট্রেন ছাড়বে। ওই তিনটি ট্রেন যথাক্রমে রাত ২টো ২৫ মিনিট, ভোর ৩টে ২৫ মিনিট এবং ভোর ৫টা ৩ মিনিটে নামখানায় পৌঁছবে।
নামখানা এবং কাকদ্বীপের মধ্যে সিঙ্গল লাইন থাকার প্রতিকূলতা সামলে দৈনিক ২৩ জোড়া লোকাল ট্রেন চালানো হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছেন শিয়ালদহ ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা। ওই সব ট্রেনের মধ্যে পুণ্যার্থীদের জন্য ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেন শিয়ালদহ থেকে কাকদ্বীপ এবং নামখানা পর্যন্ত চালাবে রেল। দিন-রাত গড়ে প্রতি ঘণ্টায় এক জোড়া করে ট্রেন চলবে।
মেলা উপলক্ষে ভিড় সামাল দিতে শিয়ালদহ ছাড়াও কাকদ্বীপ এবং নামখানা স্টেশনে বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভিড়ের সময়ে শিয়ালদহ এবং কাকদ্বীপ স্টেশনে পুণ্যার্থীদের সাময়িক ভাবে অপেক্ষার ব্যবস্থা করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ হোল্ডিং এরিয়া। ওই অংশে থাকবে পৃথক ডিসপ্লে বোর্ড, জল, আলো, শৌচাগার। শিয়ালদহ স্টেশনের ১৫ এবং ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ও কাকদ্বীপ স্টেশনের ১ এবং ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম এই কাজে ব্যবহার করা হবে। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার যাত্রীদের এখনকার প্রবেশপথ মেলার সময়ে শুধুমাত্র যাত্রীদের বেরিয়ে আসার জন্য ব্যবহার করা হবে।
দু’প্রান্তের স্টেশনেই প্রতিটি ট্রেনে গড়ে আড়াই হাজার যাত্রী এসে পৌঁছতে পারেন ধরে নিয়ে ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর জন্য ৫৪ জন আধিকারিকের নেতৃত্বে ৩৪০ জন আরপিএফ কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত বুকিং কাউন্টার, পি ও এস যন্ত্রের মাধ্যমে টিকিট কাটার ব্যবস্থা ছাড়াও নিরন্তর ঘোষণা এবং অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে। গঙ্গার ধারে প্রিন্সেপ ঘাটে যেখানে ভিন্ রাজ্যের পুণ্যার্থীরা শিবির করে থাকেন, সেই যাত্রীদের সুবিধার জন্য কলকাতা স্টেশন থেকে প্রিন্সেপ ঘাট, মাঝেরহাট, বালিগঞ্জ হয়ে বিশেষ ট্রেন চালাবে রেল।
মেলা উপলক্ষে বাবুঘাট এবং প্রিন্সেপ ঘাট লাগোয়া অংশে ভিন্ রাজ্যের পুণ্যার্থী এবং সাধুদের একাংশ শিবির করেন। শুক্রবার কলকাতা পুর ভবনে মেলার প্রস্তুতি-বৈঠক করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভা, পূর্ত, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর–সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরের আধিকারিকেরা। সেখানে ওই পরিসর সামলানোর বিষয়টি বিশেষ ভাবে গুরুত্ব পায়।
বৈঠকের শেষে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘বাবুঘাটের পাশে অনেক সাধু আগুন জ্বালান। বিপদ ঠেকাতে এ বার সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হবে। বিপদ হলে দমকল যাতে দ্রুত পৌঁছতে পারে, তার জন্যই বাড়ানো হবে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা।’’ পাশাপাশি, মাঠ পরিচ্ছন্ন রাখতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিবেশবান্ধব শৌচাগার থাকবে। সেগুলির ব্যবস্থা করবে কলকাতা পুরসভা এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর।
মাঠ পরিষ্কার রাখার জন্য কলকাতা পুরসভার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সর্বক্ষণ নজরদারি চালাবে। তীর্থযাত্রীদের সহায়তায় পরিস্রুত পানীয় জলের গাড়ি মজুত রাখা হবে। মেয়র জানান, গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পুরসভা এবং রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ নজরদারি চলবে। এ দিনের বৈঠকে ঠিক হয়েছে, মেলার মাঠ পরিদর্শন ও পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকবেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার-সহ দুই বিধায়ক তথা মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ এবং দেবাশিস কুমার, পুর প্রতিনিধি অসীম বসু প্রমুখ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)