Advertisement
E-Paper

Duarey sarkar: দক্ষিণে বিভিন্ন এলাকায় শুরু দুয়ারে টিকাকরণ

তবে এর মধ্যেও টিকাকরণ নিয়ে অভিযোগ উঠছে কোথাও কোথাও। গত দু’তিন দিন ভাঙড় ১, ২ ব্লকে বিভিন্ন কেন্দ্রে টিকাকরণ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:০৭
বারুইপুরের মল্লিকপুর পঞ্চায়েতে এক প্রাথমিক স্কুলে টিকাকরণ শিবির। মঙ্গলবার।

বারুইপুরের মল্লিকপুর পঞ্চায়েতে এক প্রাথমিক স্কুলে টিকাকরণ শিবির। মঙ্গলবার। ছবি: সমীরণ দাস।

করোনা সংক্রমণ নিয়ে দিন কয়েক আগেই উদ্বেগ ছড়িয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। হঠাৎ করেই সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছিল কিছু এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গোসাবা-সহ একাধিক জায়গায় মাইক্রো কন্টেনমেন্ট জ়োন তৈরি করা হয়। তবে আপাতত জেলার সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। দৈনিক সংক্রমণ নেমে এসেছে পঞ্চাশের নীচে। অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যাও কমছে প্রায় রোজই।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে টিকাকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে। ক’দিন আগেও টিকার আকাল ছিল জেলার বহু জায়গায়। টিকা নিতে এসে হয়রান হতে হচ্ছিল মানুষকে। তবে আপাতত সেই ছবি বদলেছে। বেশিরভাগ হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পুরসভাগুলিতে নিয়মিত টিকা মিলছে। এমনকী, প্রশাসনের তরফে দুয়ারে সরকারের ধাঁচে এলাকায় এলাকায় গিয়ে দুয়ারে টিকাকরণ কর্মসূচিও চালু হয়েছে কোথাও কোথাও।

বিধায়কের মৃত্যু হওয়ায় গোসাবায় উপনির্বাচন আসন্ন। নির্বাচনের আগে এই দ্বীপাঞ্চলে একশো শতাংশ টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা নেয় প্রশাসন। ভোটগ্রহণের মতো বুথে বুথে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এ ভাবে চার দিনে প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। গঙ্গাসাগর মেলাও আসন্ন। দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীদের ভিড় হয় এই মেলায়। মেলার আগে সাগর দ্বীপেও একশো শতাংশ টিকাকরণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পাঁচদিনের বিশেষ টিকাকরণ শিবির। প্রতিদিন দশ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।

এর মধ্যেই জেলার কিছু এলাকায় স্কুলভবনে শিবির করে শুরু হয়েছে টিকাকরণ। মঙ্গলবার মল্লিকপুর পঞ্চায়েতের বলরামপুর প্রাথমিক স্কুলে শিবির করে টিকা দেওয়া হয় এলাকার শতাধিক মানুষকে। জেলার একাধিক পঞ্চায়েতে এ দিন শিবির হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ জয়ন্ত ভদ্র বলেন, “দুয়ারে সরকারের মতোই আমরা মানুষের দুয়ারে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে চাইছি। এদিন ৬টি পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ১৮০০ মানুষ দুয়ারে ভ্যাকসিন শিবিরের মাধ্যমে টিকা পেয়েছেন। আগামী দিনে আরও শিবির করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, আগামী কয়েকদিন দৈনিক গড়ে পঞ্চাশ হাজার করে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ প্রথম ডোজ়ের ভ্যাকসিন পেয়ে গিয়েছেন। এই সংখ্যাটা দ্রুত বাড়ানোই লক্ষ্য জেলা প্রশাসনের। যে সব এলাকায় করোনার প্রকোপ বেশি রয়েছে, সেখানে টিকাকরণে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শহর-লাগোয়া পুর ও পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে নজর দেওয়া হচ্ছে বেশি। ব্লক হাসপাতালগুলিতেও নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ কো-উইন অ্যাপের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করলে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই নিকটবর্তী কেন্দ্র থেকে টিকা পাচ্ছেন। সময়মতো দ্বিতীয় ডোজ়ও মিলছে দ্রুত।

ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলার নোডাল অফিসার রবিউল ইসলাম গায়েন বলেন, “আগের তুলনায় ভ্যাকসিনের সরবরাহ বেড়েছে। দু’দিন আগেই স্বাস্থ্য জেলায় ৫০ হাজার ভ্যাকসিন এসেছে। মঙ্গলবারও ৭০ হাজার ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। এ ভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ হলে দ্রুত টিকাকরণ হবে।”

তবে এর মধ্যেও টিকাকরণ নিয়ে অভিযোগ উঠছে কোথাও কোথাও। গত দু’তিন দিন ভাঙড় ১, ২ ব্লকে বিভিন্ন কেন্দ্রে টিকাকরণ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা অবশ্য জানান, প্রতিটি ব্লকে প্রতিদিন টিকাকরণ হচ্ছে না। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভাগ করে টিকাকরণ চালানো হচ্ছে কোথাও কোথাও।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy