বিজেপিকে রুখতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতে এ বার লোকসভা ভোটে দলীয় প্রচার কৌশল পাল্টাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
দলীয় নেতারা জানাচ্ছেন, অতীতে জেলাস্তরে প্রচার চালানো হত। এ বার যে সব জায়গায় বুথ হচ্ছে, সেখান থেকেই প্রচার অভিযান শুরু করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালানো হবে বলে জানান তৃণমূল নেতৃত্ব।
সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনায় বিজেপির প্রভাব বেড়েছে। বিশেষ করে তা মতুয়াদের মধ্যে বেশি প্রভাব ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ঠাকুরনগরে মতুয়াদের ধর্মীয় সভায় ঘুরে গিয়েছেন। সভাতে ভিড়ও হয়েছিল। রাজনৈতিক মহল মনে করছে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত কিছুটা হলেও চিন্তায় ফেলেছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে।
তৃণমূলের দাবি, জেলায় সমস্ত বুথে ভোটে এজেন্টই দিতে পারবে না বিজেপি। কারণ সেই সাংগঠনিক শক্তি নাকি তাঁদের নেই।
তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছেন, জেলার প্রতিটি বুথকে শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জেলা তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে, বুথ কমিটিগুলোকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথে ২০ জনকে নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। ওই কমিটিতে ১০ জন মহিলা ও ১০ জন পুরুষ থাকছেন। ভ্যান চালক, রিকশা চালক, টোটো-অটো চালক থেকে শুরু করে শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবী কমিটির মধ্যে থাকছেন। তাঁরা রোজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত থাকছেন। এই দু’ঘণ্টা ৪০টি বাড়িতে গিয়ে প্রচার করবেন।
রবিবার সকালে হাবড়াতে বারাসত লোকসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রস্তুতি সভায় এসে দলীয় ওই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি বলেন, ‘‘বুথ কমিটির সদস্যেরা কেউ ভ্যান চালান, অটো চালান, কেউ ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, রেলে চাকরি করেন। তাঁরা যাতে কাজকর্ম মিটিয়ে দলীয় প্রচার করতে পারেন, সে জন্য সকাল ও সন্ধ্যায় একঘণ্টা করে প্রচারসূচি রাখা হয়েছে।’’ আপাতত হাবড়ার আড়াই’শো বুথে ওই প্রচারপর্ব শুরু হচ্ছে। তারপর গোটা জেলায় শুরু হবে বলে তিনি জানান। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারে কী বলবেন বুথ কমিটির সদস্যেরা?
জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর চালু করা বিভিন্ন প্রকল্প যেমন, খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, রূপশ্রী, যুবশ্রী, শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারের মাধ্যমে নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে মানুষ কোন প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, তার নথিও সংগ্রহ করা হবে। তাঁরা যে প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন সেটাও তাঁদের মনে করিয়ে দেবেন বুথ কমিটির সদস্যেরা।
জ্যোতিপ্রিয়ের দাবি, এমন কোনও বাড়ি হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে কেউ না কেউ প্রকল্পগুলোর সুবিধা পায়নি। এ সব প্রচারের মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়িয়ে তোলা হবে। যার প্রভাব পড়বে ভোটবাক্সেও বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।