দলের বিবদমান দুই গোষ্ঠীর নেতারা হাজির হলেন একই মঞ্চে।
মঙ্গলবার ভাঙড়ের শোনপুর সব্জিহাটার মাঠে তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের উদ্যোগে কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে মঞ্চে দেখা গেল দলের আর এক নেতা কাইজার আহমেদকেও। যা দেখে মঞ্চেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন জেলার অন্য দুই নেতা, শুভাশিস চক্রবর্তী ও শক্তি মণ্ডল।
হাজার দশেক কর্মীকে সাক্ষী রেখে আরাবুল ও কাইজার একে অন্যের পিঠ চাপড়ে দেন। আলিঙ্গন করতেও দেখা যায় তাঁদের। যা দেখে নিচুতলার অনেক কর্মী কার্যত অবাক। কাইজার আরাবুলের প্রশংসা করে বলেন, ‘‘আরাবুলদা বলেই এক সঙ্গে এত বড় জমায়েত করতে পেরেছেন। সেই তুলনায় মাঠ ছোট হয়ে গিয়েছে।’’ আরাবুলও কাইজারের প্রশংসা করে বলেন, ‘‘ও সারা বছর মানুষের পাশে থেকে কাজ করে। একজন দক্ষ সংগঠক।’’ বিধানসভা ভোটে ভাঙড়ের মাটিতে শাসকদলকে ভুগতে হয়েছে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য। আসনটিও হাতছাড়া হয়েছে। আরাবুল, কাইজার, নান্নু, ওহিদুল গোষ্ঠীর লড়াইয়ের মাটি হিসেবেই পরিচিত এই বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটে বিবদমান চার নেতাই বিধায়ক পদপ্রার্থী ছিলেন। তবে দল টিকিট দেয় রেজাউল করিমকে।
ভোটের পরেই অসুস্থ হয়ে মারা যান ভাঙড় ২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি ওহিদুল ইসলাম ও জেলা পরিষদ সদস্য নান্নু হোসেন। আইএসএফ জয়ী হওয়ায় কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন আরাবুল ও কাইজার। শেষমেশ যুযুধান দুই গোষ্ঠীর নেতাকে দেখা গেল একে অন্যের দিকে মৈত্রীর বার্তা দিতে। আরাবুল বিরোধী বলে পরিচিত আরও কিছু নেতা এদিন ছিলেন মঞ্চে।
তৃণমূলের কিছু নেতার মতে, ওহিদুল মারা যাওয়ার পর থেকে ভাঙড় ২ ব্লকের সভাপতি পদ খালি পড়ে রয়েছে। আরাবুল ইদানীং ওই পদ পেতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতাদের এক ছাতার তলায় এনে ভাবমূর্তি বদলাতে চাইছেন।
তৃণমূলের যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কে সভাপতি হবেন, তা ঠিক করবে দল। তবে আজকের কর্মিসভায় আরাবুলের প্রতি মানুষের যে আবেগ দেখেছি, তা আর কারও ক্ষেত্রে দেখিনি।’’ জেলার আইএনটিটিইউসি সভাপতি শক্তি মণ্ডল বলেন, ‘‘কেবলমাত্র মঞ্চে ঐক্য দেখালে ভোটে জেতা যায় না। ভাঙড়ে কেন হার হয়েছে তা বিশ্লেষণ করে ভুল-ত্রুটি সংশোধন করতে হবে।’’