Advertisement
E-Paper

লকডাউনে স্থানীয়দের খাওয়াচ্ছে বন দফতর

রাজ্য বন দফতর সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গে  প্রতি দিন  ৫,৩০০ জনকে রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে।

কৌশিক ঘোষ

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ ০২:১২
ছবি: এএফপি।

ছবি: এএফপি।

কোনও দিন খিচুড়ি। সঙ্গে বাঁধাকপি। কোনও দিন বা ভাত আর ডিমের ঝোল।

লকডাউনের সময়ে অরণ্য বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সামিল করা ছাড়াও চোরাশিকার বন্ধ করতে রান্না করা খাবার বিতরণ করছে বন দফতর।

রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রাজ্যে অরণ্য অধ্যুষিত অঞ্চল লাগোয়া যে বসতি রয়েছে, লকডাউনের সময়ে সেখানকার বাসিন্দাদের সহযোগিতা পেতেই এই কর্মসূচি। লকডাউনে খাদ্যের সমস্যার ফলে চোরাশিকার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। বনকর্মীরাই নন, আশপাশের মানুযেরাও চোরাশিকার ঠেকাতে পারেন। তা ছাড়াও, এই সময়ে খাবারের সন্ধানে যাতে তাঁদের না ঘুরতে হয়, সেই কারণেও রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে।” রাজীববাবুর দাবি, রাজ্য বনদফতরই রাজ্য সরকারের একমাত্র দফতর, যারা বনাঞ্চল সংলগ্ন বস্তিতে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। যত দিন না পর্যন্ত লকডাউন না ওঠানো হচ্ছে, তত দিন ওই খাবার বিতরণ করা হবে বলেও মন্ত্রী জানিয়েছেন।

রাজ্য বন দফতর সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গে প্রতি দিন ৫,৩০০ জনকে রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের রায়পুর টি গার্ডেন, সরস্বতীপুর টি গার্ডেন সহ কয়েকটি চা –বাগান এবং বৈকু্ঠপুর, চাপড়ামারি, ধূপজোড়া, মালঙ্গি, লাটাগুড়ি, জলদাপাড়া, বক্সা এবং জয়ন্তী অঞ্চলের জঙ্গল সংলগ্ন অধিবাসীদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সুন্দরবন অঞ্চলেও বন দফতর প্রতি দিন প্রায় ৪০০ জনকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। পুরুলিয়া, মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ার বনাঞ্চলের আশপাশের বাসিন্দাদের কিছু কিছু জায়গাতেও রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য কিছু জায়গায় পরিকাঠামোর অভাবে প্যাকেটে চাল, আলু এবং ডাল বিতরণ করা হচ্ছে বলেও বন দফতরের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানান, রাজ্য বন দফতর যে ‘ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি’ তৈরি করেছে, সেখানে বনকর্মীরা ছাড়াও এলাকার বাসিন্দাদের নেওয়া হয়। এঁরা অন্য কাজও করেন। কিন্তু লকডাউনে আটকে পড়ায় অনেকেই সেই কাজ করতে পারছেন না। খাবার পেতেও অসুবিধা হচ্ছে। আবার যানবাহন না থাকায় অনেক বনকর্মী আসতে পারছেন না। ফলে, নজরদারির কাজে বনাঞ্চলের আশপাশের বাসিন্দাদের ওপরেই অনেকটাই বন দফতরকে নির্ভর করতে হচ্ছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট এমপ্লয়িজ ফেডারেশন-এর চেয়ারম্যান অমল সিংহ বলেন, ‘‘লকডাউনের পরিস্থিতিতে বনে নজরদারিতে সমস্যা তৈরি হওয়ায় অনেক জায়গায় লুকিয়ে চুরিয়ে গাছ কাটারও খবর এসেছে। প্রতি বছর এই সময়ে চোরাশিকারের প্রবণতা বাড়ে। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্ত্রী।”

CoronaVirus Lockdown
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy