Advertisement
E-Paper

বাইক বাহিনীর টহল, বোমাবাজি

বোমাবাজিতে আতঙ্ক ছড়ায় ভাটামালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে।

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২০ ০২:১৯
টক্কর: দাপিয়ে বেড়াল এরাই

টক্কর: দাপিয়ে বেড়াল এরাই

লকডাউনের জেরে নিরন্ন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বসিরহাটের ইটভাটাগুলিতে আটকে পড়েছেন ভিন রাজ্যের বহু শ্রমিক। কর্মহীন স্থানীয় শ্রমিকেরাও। ইটভাটা চালুর তোড়জোর শুরু হতে না হতে হাসনাবাদে শুরু হয়ে গেল দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। সরকারি বিধিনিষেধ উড়িয়ে বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে প্রায় শতাধিক বাইকে দুষ্কৃতীরা হানা দিল ইটভাটাগুলিতে।

বোমাবাজিতে আতঙ্ক ছড়ায় ভাটামালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে। অভিযোগ, ইটভাটা থেকে তোলা আদায় করতেই উঠেপড়ে লেগেছে দুষ্কৃতীরা। সিপিএমের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইটভাটায় কাজ শুরু করা যাবে। ১৫ শতাংশ শ্রমিক দিয়ে ভাটা চালানো যাবে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতেই দুষ্কৃতীদের দু’টি দলের মধ্যে এলাকা দখলের লড়াই শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে হাসনাবাদের মুরারিশাহ এলাকার ভবানীপুরে ইটভাটার মালিকেরা শ্রমিকদের ত্রাণ বিলি নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন। সে সময়ে প্রায় ১০০টি মোটরবাইক হাজির হয়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শ্রমিকেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইকগুলি নিয়ে দুষ্কৃতীরা দীর্ঘক্ষণ চক্কর দেয় ওই এলাকায়। কয়েকটি বোমা ফাটায়। পালিয়ে যান ইটভাটা মালিকেরা। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছয়। ততক্ষণে অবশ্য এলাকা ছেড়েছে হামলাকারীরা।

ইটভাটা চালু করলে তাদের লোকেদের কাজে নিতে হবে দৃষ্কৃতীরা মালিকদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। মালিকদের একাংশের আবার অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সরাসরি মোটা টাকা তোলা চাওয়া হয়েছে। তবে রাজ্যের এই ঘোষণার পরে ইটভাটা চালু হবে কিনা, তা ঠিক হয়নি। কেউ কেউ জানান, শ্রমিক পেতে হলে বাড়তি মজুরি দিতে হবে। আবার মালিকদের কেউ কেউ জানান, শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ফিরে গিয়েছে। ফলে ভাটা চালানো অসম্ভব।

হাসনাবাদের বিডিও অরিন্দম মুখোপাধ্যায় বলেন, “বাইক মিছিলের বিষয়টি মহকুমাশাসককে জানিয়েছি। তিনি যা বলবেন, সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে।” বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই বলেন, “লকডাউন ভাঙায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছে।”

স্থানীয় সিপিএম বিধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, “তৃণমূলের বাহিনীই বোমাবাজি করে তোলা আদায়ের চেষ্টা শুরু করেছে।” জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূলের ফিরোজ কামাল গাজি অবশ্য বলেন, “কারা বাইকে করে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা আমার জানা নেই। সিপিএম মিথ্যা অভিযোগ করছে।”

Lockdown Coronavirus COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy