স্বামীকে কুপিয়ে খুন করে পালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। স্ত্রী অভিযোগ করেন, জমিজমা নিয়ে বিবাদের জেরেই খুন। সেই মতো এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।
কিন্তু তদন্তকারী অফিসারদের কোথায় যেন একটা খটকা লাগছিল। সন্দেহের তির ঘুরতে থাকে নিহতের স্ত্রীর দিকে। শেষমেশ, স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকীরাদের দাবি, প্রেমের পরিণতিতেই এই খুন। মহিলার প্রেমিকই কুপিয়ে খুন করেছিল। ধরা পড়েছে সে-ও।
বারাসতের মনুয়া-কাণ্ডের ছায়া এ বার ঘটনাটি বসিরহাটের পিঁফায়।
সপ্তাহখানেক আগে খুন হয়েছিল আবসার গাজি। বৃহস্পতিবার তাঁর স্ত্রী নুরনাহার বিবি ও তার প্রেমিক আব্দুল হক মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ, শুক্রবার তাদের বসিরহাট আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে হাসনাবাদের ভেবিয়ার বাড়ি থেকে নমাজ সেরে পিঁফায় শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন আবসার। পথেই খুন হন। নুরনাহার পুলিশকে জানান, শ্বশুরবাড়ির এলাকায় রাস্তার ধারের এক টুকরো জমি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিবাদ চলছে নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে। তারাই দুষ্কৃতী লাগিয়ে খুন করেছে আসরফকে।
খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। নুরউদ্দিন গাজি নামে একজনকে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করার পরে পুলিশ বুঝতে পারে, সম্পত্তি নয়, এই খুনের পিছনে আছে নিহতের স্ত্রী প্রেমের সম্পর্ক। ওই মহিলার গতিবিধির উপরে নজর রাখা শুরু হয়। জানা যায়, পিঁফার বাসিন্দা আব্দুলের সঙ্গে নুরনাহারের দীর্ঘ বাইশ বছরের সম্পর্ক। বিয়ের পরও সেই সম্পর্ক পিছু ছাড়েনি।
ঘটনার পিছনে নুরনাহার ও আব্দুলের যোগাযোগ আছে বুঝতে পেরে পুলিশ গ্রেফতার করে আব্দুলকে। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, জেরায় ওই ব্যক্তি স্বীকার করে, আবসারের স্ত্রীর সঙ্গে তার মেলামেশা ছিল। সম্প্রতি আব্দুল এবং নুরনাহার ঠিক করে, এ বার বিয়ে করতে হবে। সেই মতোই আবসারকে খুনের পরিকল্পনা কষা হয়।
ঘটনার সন্ধ্যায় নুরনাহারের বাপের বাড়িতে গিয়েছিল আব্দুল। সে সময়ে নুরনাহার জানায়, রাতের দিকে ফিরবে ফিরবে স্বামী। অন্ধকার পথে দা হাতে লুকিয়ে থাকে আব্দুল। অভিযোগ, রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ আবসার সেখান দিয়ে যাওয়ার সময়ে পিছন থেকে তাঁর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাড়ে, গলায় কোপ মারে আব্দুল। আব্দুলকে জেরা করে পরে নুরনাহারকেও গ্রেফতার করা হয়। আব্দুলের মোবাইল ঘেঁটেও পুলিশ জানতে পারে, দু’জনের সম্পর্ক ছিল।