Advertisement
E-Paper

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত যুবক

সোমবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ডায়মন্ড হারবার বাসস্ট্যান্ডের পাশে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সোমনাথ মণ্ডল (৩০)। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ০২:৫৫
—প্রতীকী চিত্র।

—প্রতীকী চিত্র।

হোটেলের বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং লাগাতে উঠেছিলেন এক যুবক। পাশে ইলেকট্রিকের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নীচে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল তাঁর।

সোমবার সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ডায়মন্ড হারবার বাসস্ট্যান্ডের পাশে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সোমনাথ মণ্ডল (৩০)। বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহে।

পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহখানেক আগে পুরসভার অনুমতিতে একটি বিজ্ঞাপন সংস্থা হোর্ডিং লাগানোর জন্য প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার লোহার কাঠামো তৈরি করে। ওই কাঠামোটির ঠিক ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি দূরে রয়েছে ১১ হাজার ভোল্টের হাইটেনশন লাইনের তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ হোর্ডিং লাগানোর আগে ফুটপাথের পাশে একটি সিগারেটের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সোমনাথবাবু পোশাক বদলান। সে সময়ে ওই দোকানি নিরঞ্জন দাস সাবধান করেন সোমমনাথকে। বিদ্যুৎ লাইনের পাশে কাজ করতে গেলে যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে সকলেরই আশঙ্কা ছিল। সাবধানেই কাজ করবেন, এই বলে এগিয়ে যান সোমনাথ।

পুলিশ জানায়, হোর্ডিং লাগানোর সময়ে বিদ্যুতের তারে ডান হাত লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন ওই যুবক। বিকট শব্দ হয়। তারপরেই উপর থেকে ১১৭ নম্বর রোডের উপরে ছিটকে পড়েন সোমনাথ। মাথার পিছনে চোট পান। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়েরা। কিছুক্ষণ পরে সেখানেই মৃত্যু হয় সোমনাথের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ভাবে এক জনের মৃত্যুর পরেও পুরসভার কোনও হেলদোল নেই। দুর্ঘটনার দু’ঘণ্টা কেটে গেলেও পুরসভা বা পুলিশের কোনও কর্মী হাসপাতালে আসেননি। বিদ্যুৎ লাইনের পাশে আরও বিজ্ঞাপন লাগানো রয়েছে। সেগুলিও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, পুরসভা কেন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি? এমনকী, যে সংস্থা থেকে বিজ্ঞাপন লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তাঁরাও কর্মচারীর জন্য হেলমেটের ব্যবস্থা করেননি। হেলমেট থাকলে সোমনাথ প্রাণে বেঁচে যেতে পারতেন বলে চিকিৎসকদেরও ধারণা।

পুরপ্রধান মীরা হালদার বলেন, ‘‘ওই বিজ্ঞাপনের কাঠামো তৈরির পরে পুরসভা থেকে পরিদর্শন করা হয়েছিল। হাইটেনশন লাইনের পাশে তৈরি করা হয়েছে দেখে ওঁদের বারণ করা হয়েছিল। দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা তা শোনেননি।’’ বিজ্ঞাপন সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হবে কিনা, সে বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি পুরপ্রধান। তিনি বলেন, ‘‘বিজ্ঞাপন কাঠামো এমন অবস্থায় থাকলে তা সরিয়ে ফেলা হবে।’’

পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহ ময়না-তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে পুলিশের তরফে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এ দিন দুপুরে হাসপাতালে আসেন মৃতের ভাই সুভাষ মণ্ডল-সহ কয়েক জন প্রতিবেশী। তাঁরা জানান, বছরখানেক আগে ঠিকা শ্রমিকের কাজে যোগ দিয়েছিলেন সোমনাথ। বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা, স্ত্রী রয়েছেন।
ভাইয়ের কথায়, ‘‘এখন কী সংসার চলবে, কে জানে।’’

Khardaha electrified Dead খড়দহ
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy