সুন্দরবনে পানীয় ‘জল বন্ধু’ হিসাবে কাজ করা এক ঠিকাদারের বিল না মেটানোর অভিযোগে মথুরাপুর ২ বিডিওর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করলেন ওই ঠিকাদার। ক্যানিঙের হেড়োভাঙা এলাকার বাসিন্দা আসমত আলি মোল্লা নামে ওই ঠিকাদার বৃহস্পতিবার বলেন, “কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও বিডিও আমার প্রাপ্য ১৩ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা দিচ্ছেন না। ঠিকাদারি করলেও আমি আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নই। ধারদেনা করে পাঁচ বছর ধরে এই কাজ করছি। আমি টাকা না পাওয়ায় কর্মীদের পারিশ্রমিক দিতে পারছি না। অন্য দিকে, ঋণের টাকা সুদে বাড়ছে। ছ’মাস ধরে ঘুরে ঘুরেও ওই টাকা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।” ৯ ডিসেম্বর বিচারপতি সোমবুদ্ধ চক্রবর্তীর এজলাসে মামলার শুনানি শুরু হবে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে ফোন করলেও ফোন ধরেননি বিডিও মোনালিসা তিরকে। জবাব দেননি এসএমএসেরও। এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই বলে জানিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের মহকুমাশাসক শান্তনু বসু।
পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পীযূষ বৈরাগী, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ জয়ন্ত ভাণ্ডারীরা বলেন, “ওই ঠিকাদারকে নিয়ে আমরা বেশ কয়েকবার বিডিওর কাছে দরবার করেছি। কিন্তু বিডিও অদ্ভুত ভাবে কোনও কারণ না দেখিয়ে আমাদেরকেও ফিরিয়ে দিয়েছেন।” আসমতের আইনজীবীর বক্তব্য, অনেক সময়ে টাকা না থাকলে বিল মেটাতে দেরি হয়। সে কারণও দেখাচ্ছেন না বিডিও। তা ছাড়া, টাকা না থাকলে কাজের বরাত দেওয়া হল কী করে? যদিও পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ওই ঠিকাদারের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার মতো যথেষ্ট টাকা ব্লক প্রশাসনের বিভিন্ন তহবিলে রয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরবন এলাকায় পানযোগ্য জল পাওয়া যায় মাটির অনেক গভীরে। ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের জন্য জল লবণাক্তও হয়। বিশেষত শীতের শেষ থেকে গ্রীষ্মকালে জলস্তর নেমে যাওয়ায় অথবা কোথাও নলকূপ থেকে পানের অযোগ্য লবণাক্ত জল উঠে আসে। এলাকায় এমনিতেই নলকূপের সংখ্যা কম। তার উপরে পানীয় জলের এই সঙ্কটে সাধারণ মানুষের যাতে সমস্যা না হয় সে জন্য প্রতিবছর ওই সময়ে নলকূপগুলি বিশেষ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ বা ডিজেল পাম্পের সাহায্যে শোধন করা হয়। মথুরাপুর ২ ব্লকে এ রকম ৫৫টি নলকূপ শোধন করার বরাত পেয়ে কাজ করেছেন আসমত।
ব্লক প্রশাসন থেকে তাঁকে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল কাজের বরাত দেওয়া হয়। এর এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে দেন তিনি। ব্লক প্রশাসনের কাছে বিল জমা দেন ১৫ মে। তার আগে ১৪ মে সঠিক ভাবে কাজ হয়েছে বলে শংসাপত্র দেন ব্লকের সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার। অভিযোগ, তারপর থেকে কোনও কারণ না জানিয়ে দিনের পর দিন টাকার জন্য ঘোরাতে থাকেন বিডিও। আসমত বলেন, “প্রতি সপ্তাহে প্রায় দশ ঘণ্টার রাস্তা পেরিয়ে দু’বার করে বিডিওর কাছে যাওয়া আসা করেছি। দুর্ব্যবহার পেয়েছি। কিন্তু টাকা পাইনি।”