Advertisement
E-Paper

নতুন জায়গা দেখার টানে বাড়ি থেকে পালায় শকুন্তলা

মেয়েটার মন টেঁকে না ঘরে। ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগে নতুন নতুন জায়গায়। গাছপালা, নদী, পাখি, চাঁদ... এ সবের টান পেয়ে বসেছে বছর ষোলোর মেয়েটাকে। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে মেয়েকে পড়াশোনা করানোই সম্ভব হয়নি, তো বেড়ানো। গরিবের ঘরে সে সব তো দিবাস্বপ্ন। কিন্তু মেয়ের তো দু’চোখে সেই ঘোর লেগে গিয়েছে। তাই সাত পুরনো সাইকেলের ভরসাতেই সে বেরিয়ে পড়়ে বাড়ি থেকে।

সীমান্ত মৈত্র

শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০১৫ ০১:১৪

মেয়েটার মন টেঁকে না ঘরে। ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগে নতুন নতুন জায়গায়। গাছপালা, নদী, পাখি, চাঁদ... এ সবের টান পেয়ে বসেছে বছর ষোলোর মেয়েটাকে।

কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে মেয়েকে পড়াশোনা করানোই সম্ভব হয়নি, তো বেড়ানো। গরিবের ঘরে সে সব তো দিবাস্বপ্ন। কিন্তু মেয়ের তো দু’চোখে সেই ঘোর লেগে গিয়েছে। তাই সাত পুরনো সাইকেলের ভরসাতেই সে বেরিয়ে পড়়ে বাড়ি থেকে। একাই।

এ ভাবেই নৈহাটি গৌরীপুর হসপিটাল পাড়া থেকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে প়ড়েছিল শকুন্তলা। সাইকেল চালাতে চালাতে এসে পড়ে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বাগদায়। পুলিশের চোখে পড়ায় অভিযান স্থগিত রাখতে হয়েছে মাঝপথে। তবে মেয়ের বাবা হরিলালাবাবু বিলক্ষণ বোঝেন মেয়ের মন। বকাঝকা করে, বুঝিয়ে লাভ করতটা হবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে তাঁর নিজেরই। এর আগে বার পাঁচেক মেয়েকে বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বেপাত্তা হয়ে যেতে দেখেছেন তিনি। এখন কিশোরীর মেয়ের ব্যাগে ঠিকানা, নাম, ফোন নম্বর লিখে ভরে রেখেছেন।

সাইকেল নিয়ে বেরোনোর আগে আপদ-বিপদ, খাওয়া-দাওয়া, থাক— কোনও কিছুরই পরোয়া করে না মেয়েটি। টাকা-পয়সা বিশেষ সঙ্গে রাখার অবকাশও নেই। অভাবের সংসার। রাস্তায় চেয়ে-চিন্তে খেয়ে কয়েকটা দিন কাটিয়ে দেয়, জানালো শকুন্তলা। রাস্তার পাশে সাইকেল রেখে মাঝে মাঝে জিরিয়ে নেয়। ফের শুরু হয় টই টই।

দিন কয়েক আগে রাত ১২টা নাগাদ বাগদা থানার ওসি প্রসূন মিত্র টহল দিতে বেরিয়েছিলেন। দত্তফুলিয়া থেকে ফেরার পথে তাঁর চোখে পড়ে, একটি মেয়ে এত রাতে সাইকেল টানতে টানতে সিন্দ্রাণীর দিকে যাচ্ছে। প্রথমটায় প্রসূনবাবুর মনে হয়েছিল, কোনও আদিবাসী মেয়ে বাড়ি ফিরছে। কাছেই আদিবসী পাড়াও আছে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ফের সন্দেহ হওয়ায় পিছিয়ে আসেন গাড়ি নিয়ে। এক পুলিশকর্মীকে গিয়ে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলতে বলে‌ন। মেয়েটির প্রাথমিক ভাবে ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না। কিছুটা হাবাগোবা ধরনের। পরে পুলিশ কর্মীদের সে নাম, ঠিকানা জানায়। বলে, সাইকেলের টায়ার ফেটে যাওয়ায় হাঁটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ তল্লাটের কিছুই যে সে চেনে-জানে না, তাও স্বীকার করে মেয়েটি। তার কাছে একটি কাগজের টুকরো পায় পুলিশ। তাতেও নাম, ঠিকানা, বাবার নাম লেখা ছিল।

মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। নৈহাটি থানার মাধ্যমে খবর দেওয়া হয় বাবাকে। ইতিমধ্যেই নৈহাটি থানাতেও মেয়েটির পরিবার নিঁখোজ ডায়েরি করেছিল। পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে বাবা ও কয়েক জন আত্মীয় বাগদা থানায় হাজির হন। পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য মেয়েটির সাইকেল মেরামত করে দেওয়া হয়। তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে সাইকেল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়িতে। পুলিশের পক্ষ থেকে মেয়েটিকে খাওয়ানো হয়। একটি নতুন চুড়িদার কিনে দেওয়া হয়েছে পুজোর উপহার হিসাবে। পুলিশ কর্মীরা অনুরোধ করেছেন শকুন্তলাকে, আর যেন সে এ ভাবে হুটহাট বাড়ি থেকে বেপাত্তা না হয়। ঘাড় নেড়ে তাতে নাকি সম্মতিও দিয়েছে মেয়েটি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy