E-Paper

বিএলও-সহ দু’জনের মৃত্যুতে আঙুল নির্বাচন কমিশনের দিকে

জোৎস্নার ছেলে গোপাল হালদার বলেন, “তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ হিসাবে নাম আসায় মা দুশ্চিন্তা করছিলেন। তাতেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী।”

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ০৭:১৬

—প্রতীকী চিত্র।

জোড়া মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার ফের আঙুল উঠল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দিকে। নথি জমা দিয়েও সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকার অভিযোগে কবরস্থানে গিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছে জনতা। কমিশনের দেওয়া পুরস্কার ফিরিয়েছেন বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)-রা। অবরোধ, মিছিল হয়েছে রাজ্যের নানা প্রান্তে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে এ দিন সকালে মৃত্যু হয় সুবিমল কারকের (৫৮)। এই প্রাথমিক শিক্ষক বাকিবাঁধ পঞ্চায়েতের একটি বুথের বিএলও ছিলেন। পরিবার সূত্রে খবর, এ দিন সকালে হৃদ্‌রোগে তাঁর মৃত্যু হয়। আত্মীয়দের দাবি, ‘‘এসআইআরের কাজে ঘুরে অসুস্থ হন। মানসিক চাপ ছিল। এই দায়িত্ব নিতেও চাননি।’’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা বলেন, ‘‘বিএলও-দের নাম বাদ চাপ দেওয়া হচ্ছে। অনেকেরই চাপ নেওয়ার ক্ষমতা নেই। মানসিক চাপ দিয়ে একটি পরিবারকে অসহায় করে দেওয়া হল।’’ জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ রায়ের পাল্টা দাবি, ‘‘শুনেছি, ওই বিএলও অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূল।’’

ভোটার তালিকায় নাম ‘বিবেচনাধীন’ থাকার আতঙ্কে এ দিন দুপুরে জ্যোৎস্না হালদার (৭৬) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতেও। পরিবার সূত্রে খবর, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বৃদ্ধার নাম না থাকায় শুনানিতে ডাক এসেছিল। বৈধ নথিপত্র জমাও দেন। জোৎস্নার ছেলে গোপাল হালদার বলেন, “তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ হিসাবে নাম আসায় মা দুশ্চিন্তা করছিলেন। তাতেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী।” মৃত্যুর কারণ নিয়ে তরজায় জড়িয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপি।

‘নাগরিকত্ব নিশ্চিত করুন, না হলে আমাদের জ্যান্ত কবর দিন। নাগরিকত্ব না থাকলে বেঁচে থেকে কী লাভ’? এমনই দাবি তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এ দিন মালদহের চাঁচলের কলিগ্রামে কবরস্থানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের ক্ষোভ, সংখ্যালঘু-প্রধান এলাকায় বহু বুথে পাঁচ শতাধিকের বেশি নাম ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ হিসাবে রয়েছে। কমিশনের গাফিলতিতে ওই পরিস্থিতি বলে অভিযোগ। ঘণ্টাখানেক বিক্ষোভ চলে। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম নুর আলমের কথায়, ‘‘বাপ-ঠাকুরদা এ দেশের নাগরিক। বাধ্য হয়ে পথে নেমেছি।’’ মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় ৫৬ নম্বর বুথের ৩৪৭ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রাখার প্রতিবাদে ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান ওই বুথের কয়েকশো ভোটার। তাতে শামিল হন ওই বুথের বিএলও সৈয়দ তাজ ইসলাম। তাঁর নামও ‘বিবেচনাধীন’।

ব্লকের ২৪৭ জন বিএলও-র মধ্যে ৪৫ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’। সে ক্ষোভে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পুরস্কার ফেরান মুর্শিদাবাদেরই শমসেরগঞ্জের আট বিএলও। বৃহস্পতিবার ব্লক অফিসে বিডিওর কাছে গিয়ে তাঁরা পুরস্কার ফিরিয়ে দেন। বিএলও আবু বরকত শাহ আলম বলেন, “যাঁরা পুরস্কৃত হয়েছেন তাঁদের নামও ‘বিবেচনাধীন’। ভাল কাজের জন্য পুরস্কারও দেবেন, আবার নামও কাটবেন এই দ্বিচারিতা মানা যায় না।”

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বহু নাম ‘বিবেচনাধীন’ ও বাতিল হওয়ার প্রতিবাদে এ দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায় আইএসএফ। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। সিপিএম কর্মীরা পশ্চিম বর্ধমানের মহকুমাশাসকের (দুর্গাপুর) দফতরেও বিক্ষোভ দেখান।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election Commission BLO

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy