Advertisement
E-Paper

পুজোয় বেড়ান, বাড়ি পাহারা দেবে পুলিশ

পুজোয় বেড়াতে যাওয়ার বায়না করেছিল মেয়ে। তাই মেয়েকে নিয়ে দার্জিলিঙে গিয়েছিলেন বাবা-মা। ফাঁকা বাড়িতে অবাধে লুঠপাট চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে দু’দুটো পুজো। কিন্তু এখনও সে কথা ভেবে বাইরে যাওয়া তো দূর, চুরির ভয়ে পুজোর ক’দিন ঠাকুর দেখতেও বেরোতে সাহস পান না হাবরার কবিরাজ পরিবার। এলাকার কাশীপুর জয়গাছির বাসিন্দাদের প্রায় সকলেরই অবস্থা কবিরাজ পরিবারের মতো।

সীমান্ত মৈত্র

শেষ আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০১৫ ০১:২৮

পুজোয় বেড়াতে যাওয়ার বায়না করেছিল মেয়ে। তাই মেয়েকে নিয়ে দার্জিলিঙে গিয়েছিলেন বাবা-মা। ফাঁকা বাড়িতে অবাধে লুঠপাট চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে দু’দুটো পুজো। কিন্তু এখনও সে কথা ভেবে বাইরে যাওয়া তো দূর, চুরির ভয়ে পুজোর ক’দিন ঠাকুর দেখতেও বেরোতে সাহস পান না হাবরার কবিরাজ পরিবার। এলাকার কাশীপুর জয়গাছির বাসিন্দাদের প্রায় সকলেরই অবস্থা কবিরাজ পরিবারের মতো।

পুজোর হইহল্লা থেকে একটু নিরিবলি চাইতে বাইরে বেড়াতে যাওয়া অনেকেরই নেশা। হাবরার বেশ কিছু এলাকার অনেক পরিবারই ছেলেমেয়ের স্কুল ছুটির সুযোগে এই সময় বেড়াতে যান। কিন্তু পুজোয় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে যে ভাবে চুরি বাড়ছিল তাতে বাসিন্দাদের অনেকেই বেড়ানোর নেশায় দাঁড়ি টানতে বাধ্য হয়েছিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠছিল। বাসিন্দাদের এ হেন ক্ষোভের আঁচ পেয়েছিল পুলিশও। আর তাই এ বছর হাবরা থানার পুলিশ এক অভিনব পদক্ষেপ করে। পুজোর আগে হোর্ডিং-সহ নানা ভাবে প্রচার করে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, পুজোয় কেউ বেড়াতে গেলে সেই পরিবারের বাড়ি পাহারায় ব্যবস্থা নেবে তারা। বাড়ি পাহারায় থাকবে পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ার। প্রচারে সাড়াও মিলেছে বলে পুলিশের দাবি। উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরুণ হালদার বলেন, ‘‘কয়েক হাজার লিফলেট বিলি করা হয়। এলাকার মানুষও ভাল সাড়া দিয়েছেন। পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয়ে যে অসামাজিক কাজ রোধ করা যায়, এটা তার একটা উদাহরণ।’’ বিধায়ক ও খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পুলিশের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘হাবরা থানার পুলিশ দৃষ্টান্তমূলক কাজ করেছে। ওঁদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।’’

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেড়াতে গিয়েছেন এমন অনেকে তাঁদের বাড়ির তালার একটি চাবি পুলিশকে দিয়ে গিয়েছিলেন। পুজোর দিনগুলিতে সিভিক ভলান্টিয়ার ওই সব বাড়িতে মোতায়েন ছিলেন। যাঁরা চাবি দিয়ে যাননি, তাঁদের বাড়ির সামনে চব্বিশ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন ছিল। তিন থেকে চারজন পুলিশ বা সিভিক ভলান্টিয়ার ওই সব ফাঁকা বাড়িতে পাহারা দিয়েছে। পুলিশের কাছে ওই সব পরিবারে ফোন নম্বরও ছিল। ফলে বাইরে থেকেও তাঁরা নিয়মিত বাড়ির খোঁজ নিতে পেরেছেন। হাবরা থানার আইসি মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পুলিশের প্রচার অভিযানের পর বারোটি পরিবার থানায় লিখিত জানিয়েছিলেন, তাঁরা কোথায় কতদিনের জন্য বেড়াতে যাচ্ছেন। তাঁদের ফোন নম্বরও নেওয়া হয়েছিল।’’

শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণ ব্যবসায়ী লাল্টু রায় ২০ অক্টোবর বেড়াতে গিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের এমন উদ্যোগে আমরা নিশ্চিন্ত হয়েছি। অতীতে বেড়াতে গেলে আতঙ্কে থাকতাম। কিন্তু এ বার পুলিশের জন্যই সেই আতঙ্ক থেকে রেহাই মিলেছে।’’ প্রফুল্লনগরের বাসিন্দা রত্না দাস বলেন, ‘‘পুজোর কয়েক মাস আগেও এলাকায় চুরি ছিনতাই যা হচ্ছিল তাতে পুজোয় বাড়ি ফাঁকা রেখে কী ভাবে ঠাকুর দেখতে বেরোবো তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। পুজোর আগে পুলিশের এমন উদ্যোগে এ বার নিশ্চিতে ঠাকুর দেখতে পেরেছি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy