Advertisement
E-Paper

শুরু হল সাইক্লোন সেন্টার তৈরির কাজ

২০০৯ সালে বাম আমলে আয়লার ঝড়ের পরে রাজ্যের উপকূলবর্তী তিন জেলায় বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার গড়ার উদ্যোগ হয়েছিল। ২০১০ সালে কাজ শুরু করে ২০১৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। এত দিন কাজ চলছিল কাগজে-কলমে। অবশেষে কিছু জায়গায় কাজ শুরু হল। রাজ্যের প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের যুগ্ম সচিব মহম্মদ ইখলক ইসলাম জানান, দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৫০টি বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার গড়ার কাজ শুরু হয়েছে।

অমিত কর মহাপাত্র

শেষ আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৫ ০২:১৪

২০০৯ সালে বাম আমলে আয়লার ঝড়ের পরে রাজ্যের উপকূলবর্তী তিন জেলায় বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার গড়ার উদ্যোগ হয়েছিল। ২০১০ সালে কাজ শুরু করে ২০১৫ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। এত দিন কাজ চলছিল কাগজে-কলমে। অবশেষে কিছু জায়গায় কাজ শুরু হল।

রাজ্যের প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের যুগ্ম সচিব মহম্মদ ইখলক ইসলাম জানান, দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৫০টি বহুমুখী সাইক্লোন সেন্টার গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। ৭৫ ও ২৫ শতাংশ অনুপাতে বিশ্বব্যাঙ্ক ও রাজ্যের তরফে প্রকল্পের জন্য মোট বরাদ্দ প্রায় সাতশো কোটি টাকা। ২০১৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “তিন জেলার অধিকাংশ জায়গায় সাইক্লোন সেন্টার তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে একটি সংস্থাকে। তারা সদ্য কাজ শুরু করলেও অন্যগুলির বরাত দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে তা খুব শীঘ্রই করা হবে। সামগ্রিক ভাবে কিছু কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হয়েছে।”

• সাইক্লোন সেন্টারটি হবে তিনতলা। দেওয়ালহীন নীচতলা হবে গৃহপালিত পশু রাখার জন্য।

• বাকি দু’টি তলা থাকবে দুর্গতদের থাকার জন্য। যেখানে থাকবে জলের পাম্প, নলকূপ, রান্নার সরঞ্জাম, গ্যাস চুল্লি, জেনারেটর, আলো, পাখা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, লাইফ জ্যাকেট, সৌর লন্ঠন, বাতিস্তম্ভ, সাইরেন, উদ্ধার কাজের সরঞ্জাম ইত্যাদি।

• দুর্যোগের সময় ছাড়া অন্য সময়ে এই ভবনকে সরকারি নানা প্রকল্প যেমন সাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, স্বাস্থ্যশিবির, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে সময়ে কাজ শেষ করার কথা ছিল সেই সময়েই কাজ শুরু করা হয়েছে। দোরগোড়ায় বিধানসভার ভোট থাকায় সমালোচনা এড়িয়ে জেলার উপকূলবর্তী এলাকার মানুষের ভোট পাওয়ার লক্ষ্যে অবশেষে কাজ শুরু করা হল। যে এলাকাগুলিতে এই সাইক্লোন সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে সেগুলি প্রায় ১৫টি বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। প্রশাসন সূত্রে বলা হচ্ছে, বিগত সরকারের আমলে এই কাজের অগ্রগতি ছিল না। জমি সংস্থানের ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা ছিল। প্রথমে সরকারি খাস জমিতে প্রকল্পগুলি গড়ার উদ্যোগ নিলেও পরিমাণ মতো ও অবস্থানগত দিক থেকে সুবিধাজনক জমি না পাওয়ায় শেষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলির বাড়তি জমিতে প্রকল্প রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও সামান্য কয়েকটি ক্ষেত্রে খাস জমি ও সরকারি অন্য কোনও দফতরের জমিও নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, কাজে বিলম্ব হওয়ার পিছনে সরকারি আর্থিক সঙ্কটও একটা কারণ। তবে গত এক বছর আগে থেকেই মাটি পরীক্ষ-সহ অন্যান্য কাজের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, দরপত্র চূড়ান্ত না হওয়া ছাড়াও প্রয়োজনের তুলনায় কম আয়তনে জমি, নিচু জমি, জমিতে যাওয়ার রাস্তার অভাব, স্কুলের চাষজমির ফসল না ওঠা ইত্যাদি কারণে কয়েকটি জায়গায় কাজ শুরু করতে আরও দেরি হবে। উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকটি এলাকা অতি প্রত্যন্ত হওয়ার কারণ দেখিয়ে বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাটি ওই এলাকায় সাইক্লোন সেন্টার গড়ার দায়িত্ব নেয়নি।

অন্য সংস্থাটিরও দরপত্র ঝুলে আছে ওই কারণে। যদিও ইখলক বলেন, “সামান্য কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।” গত সত্তর ও আশির দশকে বাম আমলে এই তিন জেলায় যে ক’টি ফ্লাড সেন্টার গড়া হয়েছিল, সেগুলির অধিকাংশ ভগ্নপ্রায় হয়ে ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে রয়েছে। সেখানে আশ্রয় না নিয়ে সাধারণত স্কুলঘরগুলিতে আশ্রয় নেন দুর্গতরা। কয়েকটি ফ্লাড সেন্টার আবার ব্যবহার হয় প্রশাসনিক কাজে। দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানের সাইক্লোন সেন্টারটি হবে ত্রিতল। দেওয়ালহীন নীচতলা হবে গৃহপালিত পশু রাখার জন্য। বাকি দু’টি তলা থাকবে দুর্গতদের থাকার জন্য। যেখানে থাকবে জলের পাম্প, নলকূপ, রান্নার সরঞ্জাম, গ্যাস চুল্লি, জেনারেটর, আলো, পাখা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, লাইফ জ্যাকেট, সৌর লন্ঠন, বাতিস্তম্ভ, সাইরেন, উদ্ধার কাজের সরঞ্জাম ইত্যাদি। দুর্যোগের সময় ছাড়া অন্য সময় এই ভবনকে সরকারি নানা প্রকল্প যেমন সাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, স্বাস্থ্যশিবির, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে। বেসরকারি ভাবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে ভাড়ার বিনিময়ে ব্যবহার করতে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। ওই টাকা ও স্থায়ী আমানত হিসাবে রাখা টাকার সুদ ছ’বছর পরে ভবন রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy