সাড়ে তিন বছরের ছেলেকে খুন করে মাটিতে পুঁতে দিয়েছিল স্ত্রী, শ্যালক— এই অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাবা। আদালতের নির্দেশে শিশুটির মা-মামা সহ ছ’জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় মামা নিরোদ রায়কে। আপাতত পুলিশি হেফাজতে আছেন ওই যুবক। মঙ্গলবার শিশুটির দেহ মাটিতে থেকে তুলে ময়না-তদন্তে পাঠাল পুলিশ।
রাজ বিশ্বাস নামে শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল সম্ভবত ২৯ মার্চ।
এ দিন দুপুরে সিআই গাইঘাটা পার্থ সান্যাল এবং একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘণ্টা তিনেকের চেষ্টার পরে বাগদার সরিষাঘাটা শ্মশানে মাটি খুঁড়ে ওই শিশুর হাড় উদ্ধার করা হয়। সঙ্গে ছিলেন শিশুটির বাবা তাপসবাবু ও তাঁর শ্যালক ধৃত নিরোদ।
তাপসবাবু বলেন, ‘‘আমি কর্মসূত্রে দুবাইয়ে থাকি। আমার স্ত্রী অনিমার সঙ্গে সুজয় দাস নামে এক যুবকের বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর জেরেই আমার ছেলেকে কীটনাশক খাইয়ে খুন করা হয়েছে।’’ পুলিশের কাছে নিরোদ অবশ্য জানিয়েছিলেন, অসুস্থ হয়েই মৃত্যু হয়েছিল ভাগ্নের। নিরোদ ধরা পড়লেও বাকি অভিযুক্তেরা পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
পুলিশ জানায়, দেহ যেখানে পোঁতা হয়েছিল, তার উপরে একটি কলাগাছ পোঁতা হয়েছিল। যাতে কেউ কিছু বুঝতে না পারে, সে জন্যই এমনটা করা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী অফিসারেরা। পার্থবাবু বলেন, ‘‘উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ওই হাসপাতালে ময়না-তদন্ত করা সম্ভব না হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাড়গুলি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পাঠাবেন।’’ যাবতীয় পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেই শিশুটির মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।
রাজের মৃত্যু শংসাপত্র দেখাতে পারেননি নিরোদ। কেন দেহ পুঁতে উপরে কলাগাছ লাগানো হল, তারও সদুত্তর দিতে পারেননি বলে পুলিশের দাবি। সব মিলিয়ে রাজের মৃত্যু রহস্য ক্রমশ জটিল হচ্ছে।