জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ আসার আগেই ফের রাজ্য সফরে আসছে কমিশনের একটি দল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালকে লিখিত যে বার্তা দিল্লির নির্বাচন সদন পাঠিয়েছে, তাতে ৮ মার্চেই সিনিয়র উপ নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী-সহ চার সদস্যের আধিকারিক-দল আগেভাগে রাজ্যে এসে চূড়ান্ত ভোট-প্রস্তুতির বিষয়টা খতিয়ে দেখবেন। প্রসঙ্গত, ৯ মার্চ শহরে আসার কথা দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের। অন্যদিকে সমাজমাধ্যমে তৃণমূল নেতা অপূর্ব সরকার অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বগচির কাকা বৈকুন্ঠনাথ বাগচিকে বিচারাধীন (অ্যাজুডিকেশন) তালিকায় রেখেছে কমিশন। এর নেপথ্যে বাঙালি বিদ্বেষের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। যদিও কমিশনের তরফে ব্যাখ্যা, ইআরও-এইআরওদের একাংশ বিধি মেনে কাজ করলে এই সমস্যা হত না।
গত সোমবারই সিইও-সহ সেই দফতরের আধিকারিক, বিশেষ পর্যবেক্ষক, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন সিনিয়র উপ নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনের অন্য আধিকারিকেরা। সেই বৈঠকে সাধারণ ভোট প্রস্তুতি-সহ পুলিশি বন্দোবস্তের বিষয়ে সবিস্তারে আলোচনা হয়েছিল। সে দিন কমিশন একগুচ্ছ নির্দেশও দিয়েছিল প্রত্যেককে, যা তাঁদের রিপোর্ট আকারে তৈরি করে রাখার কথা কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকের জন্য। ৯ এবং ১০ মার্চ রাজ্য সফরে আসছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং অপর নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশী-সহ অন্য শীর্ষকর্তারা। সেই বৈঠকের আগে সিনিয়র উপ নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী, প্রধানসচিব এস বি যোশী, ডিরেক্টর মনোজ সি, উপ-সচিব অভিনব আগরওয়াল এসে রাজ্যের সেই প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়টি খতিয়ে দেখবেন। তার ভিত্তিতেই ভোটের সঙ্গে যুক্ত রাজ্যের কর্তা-আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আগের বৈঠকে প্রস্তুতি-রিপোর্ট নিয়ে কোচবিহার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাজে সন্তুষ্ট ছিল না কমিশন। ফলে ফুল বেঞ্চের বৈঠকে সেই জেলাগুলির উপর বাড়তি নজর থাকবে বলেই অনুমান।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির কাকার ঘটনাটি নিয়ে সমাজমাধ্যমে অভিযোগ তুলে অপূর্বের অভিযোগ, এটা বাঙালিদের সংখ্যালঘু করার রাখার প্রাথমিক পদক্ষেপ। বিজেপিকে বাঙালি বিদ্বেষী বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি। তবে কমিশন সূত্রের বক্তব্য, ক্রিকেটার রিচা ঘোষের মতো অনেকেই আন-ম্যাপড তালিকাভুক্ত ছিলেন। বিধি অনুযায়ী, সেই ব্যক্তির বা তাঁদের নিকটাত্মীয়কে শুনানিতে গিয়ে উপযুক্ত নথি দাখিল করার কথা। সেটা এমন ভোটারদের প্রায় সকলেই করেছেন। কিন্তু সেই নথি কমিশনের সফটওয়্যারে সময়ের মধ্যে আপলোড করার কথা ছিল ইআরও-এইআরওদের। কিন্তু তাঁদের একাংশ সে কাজটা করেননি। তাই দু’দফায় সময় বাড়ানোর পরেও প্রায় ১.৪০ লক্ষ নথি আপলোডই করা যায়নি। তাই সেই বিষয়গুলি বিচারাধীন হয়ে রয়েছে। ১০ মার্চ রাজ্য সফর সেরে দিল্লি ফিরে যাবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তার পরে নিরাপত্তা এবং বাহিনী সংক্রান্ত বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা তাঁদের। সূত্রের অনুমান, ১৫ মার্চ বা তার ধারেকাছে কোনও দিনে বিধানসভা ভোট ঘোষণা হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আরও ধারণা, একটি দফায় ভোট হওয়া কার্যত অসম্ভব। তবে দুই-চার দফার মধ্যে হয়তো এ রাজ্যে ভোট করাতেপারে কমিশন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)