E-Paper

কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন অভিষেকের

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সোমবার রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত মতামত না দিলেও অভিষেকের নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একাংশ। এমনকি, তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ০৯:২১
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

মাস খানেক আগেও রাজ্য পুলিশের দল তাঁকে ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তায় মুড়ে রাখত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে সেই ছবি বদলে গিয়েছে। বর্তমানে আর পাঁচ জন সাংসদের মতোই নিরাপত্তা পান ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, পালাবদলের পরে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তায় আর আস্থা রাখতে পারছেন না তিনি। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চিঠি দিয়েছেন অভিষেক। প্রসঙ্গত, গত শনিবারই সোনারপুরে গেলে অভিষেককে রাস্তায় মারধর করা হয়।

মন্ত্রক সূত্রের দাবি, ওই চিঠি পাওয়ার পরে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বুরোর (আইবি) কাছে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে। কারণ, কোন ভিআইপির কত দূর নিরাপত্তা প্রয়োজন, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে কেন্দ্রীয় আইবি যাচাই করে। আইবি-র অফিসারেরা মতামত দিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রক।

গোয়েন্দা বাহিনীর এক কর্তার কথায়, ‘‘সাংসদ হিসেবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চাওয়ার অধিকার অভিষেকের আছে। সেই হিসেবেই তিনি এই নিরাপত্তা চেয়েছেন।’’ ওই গোয়েন্দা-কর্তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অতীতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে এ রাজ্যে অধীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেয়েছেন। আগের আমলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেতেন। ২০১৯ সাল থেকেই এ রাজ্যের বিজেপি সাংসদ-বিধায়কদের তো বটেই, ২০২১ সালের পরবর্তী সময়ে আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীকেও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা দিত।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সোমবার রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত মতামত না দিলেও অভিষেকের নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একাংশ। এমনকি, তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকাতেও হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গোয়েন্দাকর্তাদের বক্তব্য, কী রকম হামলার আশঙ্কা আছে, কতটা নিরাপত্তা দরকার ইত্যাদি বিশদ আলোচনার পরেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে অনেকে মনে করছেন, এখনই ‘জ়েড’ বা ‘জ়েড প্লাস’ গোত্রের নিরাপত্তা না-ও দেওয়াহতে পারে।

তৃণমূল সরকারে থাকার সময় অভিষেক শুধু ‘জ়েড প্লাস’ নিরাপত্তাই পেতেন না, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটে তাঁর বাড়ি কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গ ছিল। পালাবদলের পরেই সে সব তুলে নিয়েছে রাজ্য পুলিশ। রাজ্য পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘‘নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সিকিয়োরিটি অডিট বলে একটি নিয়ম আছে। ওই অডিটের মাধ্যমে কোনও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় কেমন হবে, তা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ অডিট অনুযায়ী ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের যে নিরাপত্তা প্রয়োজন মনে হয়েছিল, তেমনই বন্দোবস্ত করা হয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Abhishek Banerjee TMC West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy