E-Paper

পুজোয় বেরিয়ে পরিযায়ীর পাশে অভিষেক, শুভেন্দুর ‘অসুর’ তির

কন্যা আজানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার দমদমের জ’পুর এলাকার একটি মণ্ডপে গিয়েছিলেন অভিষেক। পরিযায়ী হেনস্থার বিষয়টিই জ’পুরের ওই পুজোর এ বারের থিম।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১০:১৭
(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। —নিজস্ব চিত্র।

ভিন্ রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘হেনস্থা’র অভিযোগকে সামনে রেখে শারদ-মরসুমের কয়েক মাস আগে থেকেই ধারাবাহিক ভাবে বিজেপিকে নিশানা করেছে বিরোধীরা। পুজোর মধ্যেও এই বিষয়ে বার্তা দেওয়া অব্যাহত রইল। অষ্টমীর দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুজো-মণ্ডপে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেন। পুজোর মধ্যে যে ধরনের ‘সক্রিয়তা’ অন্য বছরের তুলনায় ব্যতিক্রমী। অন্য দিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা সরব বাংলার নারী নিরাপত্তা বেহাল এবং ‘অসুরের দাপটে’র অভিযোগে!

কন্যা আজানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার দমদমের জ’পুর এলাকার একটি মণ্ডপে গিয়েছিলেন অভিষেক। পরিযায়ী হেনস্থার বিষয়টিই জ’পুরের ওই পুজোর এ বারের থিম। সেখানে উপস্থিত ১১ জন পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের উপহার দিয়েছেন অভিষেক। এর পরেই অভিষেকের বক্তব্য, “দুর্গাপুজোয় বাড়ি ফিরেছেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা। ওঁদের আশঙ্কার কথা শুনেছি। ওঁদের আশ্বাস দিয়েছি যে, রাজ্যের মা-মাটি-মানুষের সরকার পাশে দাঁড়াবে। আমরা লড়ব। ওঁদের সঙ্গে ফুচকাও খেয়েছি। আমাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে অটুট বন্ধন রয়েছে, তা এর থেকেই বোঝা যায়।” মণ্ডপ-সফরের সময়ে অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, সরকারি মুখ্য সচেতক তথা বিধায়ক নির্মল ঘোষ, অদিতি মুন্সি, পুর-প্রতিনিধি দেবরাজ চক্রবর্তী-সহ অন্যেরা। পরে ‘বাংলা ও বাঙালি’ থিম নিয়ে তৈরি বাগুইআটির একটি মণ্ডপেও গিয়েছিলেন অভিষেক।

পাশাপাশি, পুজোর সময়ে ওড়িশায় গিয়ে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগকে সামনে রেখে সরব হয়েছে সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটু অনুমোদিত ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’। মূলত নির্মাণকর্মীদের নিয়ে সিটুর ওড়িশা রাজ্য নেতৃত্বের সহযোগিতায় হসপাল, ফুলনকরা-সহ কয়েকটি জায়গায় সভা করেছেন এই রাজ্যের প্রতিনিধিরা। শ্রমিকদের বাসস্থান, সামাজিক সুরক্ষা, ন্যূনতম মজুরি-সহ অন্য নানা দাবিতেও সরব হয়েছেন তাঁরা। সভাগুলিতে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি এস এম সাদি, সম্পাদক আসাদুল্লাহ গায়েন, দেবাশিষ আচার্য, কামাল হোসেন, ওড়িশার সিটু রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রদীপ্ত নায়েক প্রমুখ। তাঁদের অভিযোগ, ওড়িশার বিজেপির সরকার বাংলাভাষীদের হেনস্থা বন্ধে তৎপর নয়। কাগজপত্র দেখালেও হয়রানি চলছে।

এরই মধ্যে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা বেহাল বলে পাল্টা সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। কাঁথিতে একটি ক্লাবে পুষ্পাঞ্জলি দিয়েছেন তিনি। পরে কাঁথিতেই দলীয় বিধায়ক সুমিতা সিংহের পারিবারিক পুজোয় যোগ দিয়েছলেন শুভেন্দু। সেখানেই তিনি বলেছেন, “রাজ্যে প্রচুর অসুর তৈরি হয়েছে! সব মা, বোন ও দিদিরা সুরক্ষিত থাকুন। সেই সঙ্গে, আর জি কর থেকে তামান্নার খুনের ঠিক বিচার যাতে হয়, সেই প্রার্থনা করলাম।” পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ও কাঁথিতে একটি ক্লাবের পুজো প্রসঙ্গে শুভেন্দুর অভিযোগ, “রাজ্য সরকার তোষণের রাজনীতি করছে। তাই এমন ঘটনা।” সন্ধ্যায় তমলুকের একটি মণ্ডপে ঢাক বাজাতেও দেখা গিয়েছে বিরোধী দলনেতাকে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bengali Migrant Worker Bengali Abhishek Banerjee Suvendu Adhikari

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy