E-Paper

প্রাক্-ভোটের নানা প্রার্থনা, প্রতীক্ষা ‘দিদির দরবারে’র

বিধানসভার অধিবেশনের সময়ে দলীয় বিধায়কেরা দল-সরকারের শীর্ষে কিছু কথা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পান।

রবিশঙ্কর দত্ত

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৩
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।

সুযোগের সন্ধানে প্রত্যেকে। কুর্তা-পায়জামা, কোট-সোয়েটার বা শাড়ি চাদর— যা-ই হোক না কেন, সকলের হাতেই যেন অদৃশ্য ফাইল! চলতি বিধানসভার শেষ অধিবেশনের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘর এবং সংলগ্ন ভিআইপি করিডরে আর্জি জানানোর মকশো-ও করে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কিছু বিধায়ক!

বিধানসভা ভোটের আগে বিধায়কদের এক এক জনের মনে এক এক রকম আর্জি। আসন্ন নির্বাচনে কেউ নিজের টিকিট নিশ্চিত করতে চান, কেউ নিজের এলাকায় পুলিশ, কেউ বা প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সম্পর্কে পছন্দ-অপছন্দ জানিয়ে বিহিত চান ভোটের আগে। আবার কেউ দলের বেয়াড়া নেতা সম্পর্কে ‘অন্তর্ঘাতে’র আশঙ্কা দলনেত্রীর কানে তুলে রাখতে চান। ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেট উপলক্ষে তাঁকে কাছাকাছি পাওয়ার সম্ভাবনায় আর্জির তালিকা নিয়ে তৈরি হচ্ছেন তৃণমূলের বিধায়ক, প্রার্থী-পদের প্রত্যাশী এবং দলের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তেরা। ভোটের আগেই নিজের এলাকায় আটকে থাকা সরকারি প্রকল্প একটু তেড়েফুঁড়ে শেষ করা যায় কি না, তা নিয়েও দরবার করতে চাইছেন বিধায়কদের কেউ কেউ।

বিধানসভার অধিবেশনের সময়ে দলীয় বিধায়কেরা দল-সরকারের শীর্ষে কিছু কথা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পান। প্রায় ছ’মাস পরে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে এ বারেও তৈরি তাঁরা। ফের মনোনয়ন পাচ্ছেন ধরে নিয়ে দলের পুরনো এক বিধায়ক বলেন, ‘‘কানে দিয়ে রাখব। শুনলে ভাল।’’ বার্ধক্য ভাতা প্রাপকের সংখ্যা বাড়ানোর আর্জি তাঁর। ভোটের প্রচারে নামার আগেই নিজের কেন্দ্র ঘুরে তাঁর মনে হয়েছে, ‘না দিলে কঠিন।’ মনোনয়ন নিয়ে অনিশ্চিতের তালিকা একটু বড়। তেমন এক বিধায়কের কথায়, ‘‘দেখি। সামনে গেলে বোঝা যাবে, আমার দৌড় কত দূর!’’ এঁদের অনেকে নিজেদের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট মুখস্থ করে ঘুরছেন! যাতে অসুস্থতা বাধা না হয়। আবার নিজের অসুস্থতার কারণে ছেলের জন্য দিদির কাছে সওয়াল করতে চান এক বিধায়ক।

অন্য আর্জিও আছে। এক জন তো ঠিক করে রেখেছেন, সরকারি পদে সাম্প্রতিক বদলিতে নিজের এলাকা যে ঘেঁটে গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর কানে তুলবেন সে কথা। তবে সবই ‘মুড’ বুঝে। অনেকে আবার এই সময় বাড়তি ‘সতর্ক’ থাকার পক্ষপাতী।

বিধানসভায় ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ হয়ে যাওয়ার আগে পরে মমতার এই দরবার খুলবে কি না, ঠিক নেই। তবে বিধানসভায় এসআইআর নিয়ে আলোচনায় তিনি যে থাকবেন, তা নিয়ে কারও সংশয় নেই। আর সে দিন প্রাক্-নির্বাচনী এই প্রার্থনা সভা বসতে পারে বলেই তৃণমূল শিবিরে অলিখিত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে! সে ক্ষেত্রে কেউ কেউ যে ঝড়ের মুখেও পড়তে পারেন, সে কথাও জানেন পরিষদীয় দলের নেতারা!

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

2026 West Bengal Assembly Poll Mamata Banerjee

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy