১২ বছরের ‘অপহৃত’ মেয়েকে ফিরে পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাবা। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার নানা অভিযোগও করেছিলেন। কিন্তু পুলিশের রিপোর্ট দেখে কার্যত বিস্মিত হয়ে গিয়েছে আদালত। সওয়াল-জবাব শুনে বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সূত্রের খবর, অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। বরং বাবার নির্যাতন সইতে না-পেরে নারী ও শিশু সুরক্ষা কন্ট্রোল রুমের হেল্পলাইনে ফোন করেছিল ওই শিশু। শিশু কল্যাণ সমিতির নির্দেশে আপাতত লিলুয়া সরকারি হোমে আছে সে।
কোর্টের খবর, হাওড়ার এক বাসিন্দা তাঁর নাবালিকা মেয়েকে খুঁজে পেতে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন। মামলার আবেদনপত্রে তাঁর অভিযোগ ছিল, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা নাগাদ তাঁর মেয়েকে কিছু দুষ্কৃতী তুলে নিয়ে গিয়েছে। পুলিশের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানালেও এফআইআর নেয়নি পুলিশ। মেয়েকে খুঁজে বের করতে পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। মামলাটি বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির এজলাসে উঠলে পুলিশের রিপোর্ট তলব করেছিল কোর্ট।
সূত্রের খবর, গত ৩ সেপ্টেম্বরই শিশুটি ফোন করে অত্যাচারের অভিযোগ জানিয়েছিল। স্থানীয় থানার পুলিশ গিয়েই তাঁকে উদ্ধার করে এবং শিশু কল্যাণ সমিতির কাছে নিয়ে যায়। সেই সমিতির নির্দেশ মেনেই তাকে সরকারি হোমে পাঠানো হয়। শিশুটির বক্তব্য নথিবদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশের কাছে বাবার বিরুদ্ধে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগও জানিয়েছে সে। শিশুটি পুলিশকে এ-ও জানিয়েছে, তার মা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তারপর থেকে সংসারের সব কাজ তাকে করতে হত। কখনও রান্না বা বাড়ির কাজ করতে না-চাইলে বাবার কাছ থেকে জুটত মারধর ও অকথ্য গালিগালাজ। অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে সে নিজেই হেল্পলাইনে ফোন করেছিল।
পুলিশ সূত্রের দাবি, মেয়েটির বাবা থানায় যোগাযোগ করেছিলেন। সে সময় তাঁকে বলা হয়েছিল যে তাঁর মেয়েকে কী কারণে লিলুয়া হোমে রাখা হয়েছে। পরবর্তী কালে তিনি সরাসরি লিলুয়া হোমে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়ম মেনেই হোম থেকে বাবার হাতে দেওয়া হয়নি। যদিও ওই ব্যক্তি কোর্টে দাবি করেছেন যে পুলিশ কোনও সহযোগিতা করেননি। তিনি স্থানীয় ভাবে খোঁজ নিয়ে মেয়ের হদিস পেয়েছিলেন। লিলুয়া হোমে যাওয়ার কথাও তিনি কোর্টের নথিতে স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর অভিযোগ, মেয়েকে অবৈধ ভাবে আটকে রেখেছে হোম এবং মেয়েকে হোমে রাখার কোনও কারণ তাঁকে জানানো হয়নি।
পুলিশ সম্প্রতি এই রিপোর্ট কোর্টে পেশ করে। তা দেখেই বিস্মিত হন বিচারপতিরা। রীতিমতো উদ্বেগও প্রকাশ করেন বিচারপতি বসাক। তারপর মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়কে সেই রিপোর্টটি দিয়ে ওই নাবালিকার নির্দিষ্ট তিন লাইনের অভিযোগ নীরবে পড়তেও বলেন তিনি। বিচারপতি বসাক জানান, মামলা রুজু করতে হবে পুলিশকে এবং বাবাকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। ১০ ফেব্রুয়ারি মামলার ফের শুনানি হবে। সে দিন ফের পুলিশকে রিপোর্ট দিতে হবে বলেও কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)