শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস পালন করতে সোমবার রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতায় পর পর তিনটি কর্মসূচি রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু একটি মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে কলকাতায়। সোমবার সেই কর্মসূচির সূচনা করবেন তিনি। তার পরে ভবানীপুর শ্যামাপ্রসাদের আদিনিবাসেও যাবেন শাহ।
দেশ জুড়ে প্রতি বছরই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিবস উদ্যাপন করে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গেও তা করা হয়। তবে এ বারে কর্মসূচির বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়ছে। এই প্রথম বার শ্যামাপ্রসাদের রাজ্যে তাঁরই অনুসারী দলের সরকার গঠিত হয়েছে। তার উপর এ বার শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। ফলে রাজ্য বিজেপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যেই উৎসাহ-উদ্দীপনা চোখে পড়ার মতো। সেই উদ্দীপনা আরও বৃদ্ধি করেছে শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিবস পালনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কলকাতা সফর।
সোমবার বিকেলে কলকাতায় পৌঁছোবেন শাহ। বিজেপি সূত্রে খবর, কলকাতায় তাঁর প্রথম কর্মসূচি রয়েছে নিউ টাউনের ইকো পার্কে। সেখানে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে। সোমবার বিকেল ৪টে ১০ মিনিটে সেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা কর্মসূচির সূচনা করবেন শাহ। সেখান থেকে তিনি চলে যাবেন দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে। বিকেল ৫টা নাগাদ সেখানে ৭৭, আশুতোষ মুখার্জি রোডে শ্যামাপ্রসাদের আদিনিবাসে যাবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মাল্যদান করবেন শ্যামাপ্রসাদের মূর্তিতে। তার পরে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে তিনি পৌঁছে যাবেন বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি।
পূর্বতন সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে চাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে বলে বার বার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। সরকার বদলের পর শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে পুনরায় পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ জনতার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন সরকার। ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদ্যাপনের মঞ্চেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তৃতায় বার বার উঠে এসেছিল শ্যামাপ্রসাদের প্রসঙ্গ।
আরও পড়ুন:
১৯৪৭ সালে ২০ জুনই পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছিল বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায়। তার নেপথ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল শ্যামাপ্রসাদের। রাজ্য সরকার যে নতুন প্রজন্মকে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা মনে করিয়ে দিতে চাইছে, সেই আভাস দিয়েছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “এ বার আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। আসল ইতিহাসটা সকলের জানা প্রয়োজন। আর মানুষও সেটা শুনতে চাইছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা না থাকলে আজ হয়তো পশ্চিমবঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হত।”
এ অবস্থায় সোমবার শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিবস পালনে শাহের কলকাতা সফর আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কথাতেও তা স্পষ্ট। শাহের এই সফর প্রসঙ্গে শনিবারই তিনি বলেন, “শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদের সরকার তৈরি হয়েছে। ৬ জুলাই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে যোগ দিতে আসছেন। নিঃসন্দেহে এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”