E-Paper

লক্ষাধিক প্রতারণায় ধৃতের পুলিশি হেফাজত 

রাজেশের অভিযোগ, ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরে একটি বড় ব্যাগে কোনও সোনার গয়না দেয়নি যমুনা। এক ব্যাগ সোনালি রঙের মোহর ও নানা মুদ্রা দিয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কম দামে আসল সোনা বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নকল সোনার মোহর গছিয়ে ১০ লক্ষ টাকা প্রতারণা করা হয়েছিল। সেই মামলায় যমুনা শেখ নামে বীরভূমের আহমেদপুর থানার এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করল বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ। রবিবার যমুনাকে আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত যমুনার পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

পুলিশ জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি রাজেশ লস্কর নামে এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, পুরনো সোনার গয়না ও মোহর বাজারদরের থেকে কম দামে বিক্রি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যমুনা শেখ নামে এক ব্যক্তি। একটি সোনার মোহর নমুনা হিসেবে তাঁকে দেওয়া হয়। তিনি ওই মোহরটি বাজারে যাচাই করেন। সেটি আসল সোনা বলেই জানান একাধিক স্বর্ণকার। ওই সোনার মোহরটির বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু যমুনা তা ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। তার পরেই পুরনো সোনার গয়না কেনার জন্য যমুনাকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন রাজেশ।

রাজেশের অভিযোগ, ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার পরে একটি বড় ব্যাগে কোনও সোনার গয়না দেয়নি যমুনা। এক ব্যাগ সোনালি রঙের মোহর ও নানা মুদ্রা দিয়েছিল। ওই সব মুদ্রা যাচাই করে দেখা যায়, তামা ও পিতলের মুদ্রা সোনার জল করে রঙ পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই সব মুদ্রার বাজার মূল্য পাঁচ হাজার টাকাও নয়। এর পর থেকে একাধিক বার যমুনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়। যমুনাকে ফোন করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ মিলছিল। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ। কিন্তু যমুনার হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না।

এক তদন্তকারী অফিসারের কথায়, যমুনার মোবাইল নম্বরটির সূত্র ধরে খোঁজ শুরু করা হয়। জানা যায়, বীরভূম জেলার আহমেদপুর থানার সুকান্তপল্লির বাসিন্দা যমুনা। কিন্তু একাধিক বার ওই বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। সাদা পোশাকের পুলিশ তার বাড়ির আশপাশে মোতায়েন করা হয়। শনিবার দুপুরের পরে যমুনাবাড়িতে আসে। ওই সময়ই তাকে ধরা হয়। তদন্তকারীদের কথায়, আসল সোনা কম দামে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নকল সোনা বিক্রি করার প্রতারণার একটি চক্র রয়েছে। প্রাথমিক ভাবে যমুনাকে জেরা করে চক্রের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণা চক্রের অন্যতম সদস্য যমুনা। ষড়যন্ত্র করে প্রতারণা করা হচ্ছে। এই মামলায় অভিযোগকারীর কাছ থেকে নেওয়া ১০ লক্ষ টাকা উদ্ধারের জন্য যমুনাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা জরুরি। পাশাপাশি, যমুনার চক্রের বাকি সদস্যদেরও গ্রেফতার করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীকে প্রথমে নমুনা হিসেবে দেওয়া আসল অ্যান্টিক সোনার মোহরটি যমুনা কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিল এবং তা কোথায় রাখা হয়েছে, তার খোঁজও করতে হবে। এ সব কিছু জানতে যমুনাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হচ্ছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Birbhum

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy